লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে নুসরাত জাহান সুমাইয়া (২১) নামে কলেজপড়ুয়া এক ছাত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১ মে) রাতে পুলিশ ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরকাদিরা এলাকায় সঙ্ঘটিত ওই ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্বামী অভিযুক্ত সজিব আহমেদ জয়কে (২৫) আটক করেছে। তবে, শাশুড়িসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা গা ঢাকা দেয়ায় তাদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
নিহত কলেজছাত্রী সুমাইয়া উপজেলার হাজিরহাট এলাকার আবুল কালাম হায়দারের মেয়ে। তিনি স্থানীয় হাজিরহাট উপকূল সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, একই কলেজে পড়ার সুবাদে সুমাইয়ার সাথে উপজেলার দক্ষিণ চরকাদিরা এলাকার মরহুম আলমগীর হোসেনের ছেলে সজিব আহমেদ জয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর জের ধরে পরিবারকে না জানিয়ে আড়াই বছর আগে তারা দু’জনে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিষয়টি জয়ের পরিবার ভালোভাবে নেয়নি। এজন্য শাশুড়িসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময়ে সুমাইয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করায় সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত। বিষয়টি নিয়ে দু’ পক্ষের অভিভাবকদের মধ্যে বেশ কয়েকবার পারিবারিক বৈঠকও হয়।
শুক্রবার বিকেলে জয় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সুমাইয়াকে অচেতন অবস্থায় শ্বশুরবাড়িতে (সুমাইয়ার বাবার বাড়ি) নিয়ে আসে। এ সময় জয় দেড় বছরের মেয়েসন্তানকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে সুমাইয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়েছে এমন কথা বলে হাসপাতালে নিয়ে যায়। লক্ষ্মীপুরস্থ স্টার কেএস নামে এক হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমাইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে জয় সুমাইয়ার লাশ নিজ বাড়িতে নিয়ে যান এবং সুমাইয়া গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার চালান।
খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধারসহ ঘটনাস্থল থেকে জয়কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। গা ঢাকা দেয়ায় এ সময় পরিবারের অন্য কেউ বাড়িতে ছিলেন না।
নিহত সুমাইয়ার বাবা আবুল কালাম হায়দার বলেন, পরিবারের অমতে বিয়ে করায় শাশুড়িসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা সুমাইয়াকে নানানভাবে নির্যাতন করত। তাদের পাশাপাশি স্বামীর নির্যাতনেরও শিকার হতে হতো সুমাইয়াকে। বিষয়টি বাড়ির লোকজনও অবগত। সম্প্রতি সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে শাশুড়ি ও ভাসুর এর জন্য সুমাইয়াকে দায়ী করেন। এনিয়ে তারা সুমাইয়াকে গালমন্দ করাসহ মেরে ফেলার হুমকিও দেন। এসবের প্রতিবাদ করায় স্বামীসহ শাশুড়ি, ভাসুর ও ভাসুরের স্ত্রী মিলে শ্বাসরোধ করে সুমাইয়াকে হত্যা করে আত্মহত্যার প্রচার চালায়।
তিনি আরো বলেন, এটি একটি নিশ্চিত হত্যাকাণ্ড। কারণ, নিহতের গলায় নখের আঁচড়ের চিহ্ন রয়েছে। তাছাড়া আত্মহত্যাকারীর শরীরে সাধারণত যেসব লক্ষণ থাকে এসবের কিছুই সুমাইয়ার শরীরে নেই। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শনিবার (২ মে) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের স্বামীকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।



