শিক্ষক সঙ্কটে কাউখালী সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গণিত, ইংরেজি, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় স্থায়ী শিক্ষকের অভাব সবচেয়ে বেশি।​

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

Location :

Pirojpur
উচ্চ-বিদ্যালয়
উচ্চ-বিদ্যালয় |নয়া দিগন্ত

পিরোজপুরের কাউখালীর অন্যতম দুই শীর্ষ বিদ্যাপীঠ কাউখালী সরকারি কেজি ইউনিয়ন বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও কাউখালী সরকারি এস বি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সঙ্কট বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উভয় প্রতিষ্ঠানেই অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গণিত, ইংরেজি, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় স্থায়ী শিক্ষকের অভাব সবচেয়ে বেশি।​

সরকারি কেজি ইউনিয়ন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ১১ জন শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কাজ ও শ্রেণি কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। ১৭টি পদের মধ্যে মাত্র ছয়জন শিক্ষক রয়েছেন। ইংরেজি, গণিত, বাংলাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে। এছাড়া অফিস সহকারীসহ চারজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ছাত্র রয়েছে ৩১৫ জন।

বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: আমিনুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষক না থাকায় তারা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কোনো মতে জোড়া তালি দিয়ে ক্লাস চলছে।

তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক কাজের ফাঁকেও আমি দৈনিক ছয়টি ক্লাস নিচ্ছি। শিক্ষক সঙ্কটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানানো সত্ত্বেও কোনো ফলাফল পাইনি।’

এদিকে কাউখালী​সরকারি এস বি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও একই অবস্থা বিরাজমান। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ ১৭টি পদের মধ্যে মাত্র সাতজন শিক্ষক রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকসহ ১০ জন শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অফিস সহকারীসহ চারজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর পদ শূন্য। গণিত, জীববিজ্ঞান, ব্যবসায়ী শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক নেই।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: আখতার হোসেন হাওলাদার জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানানো সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় শিক্ষক পাওয়া যায়নি।’

একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানায়, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় সিলেবাস শেষ করা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। অনেক বিষয়ের মৌলিক পাঠ তারা শ্রেণিকক্ষে পাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেককে চড়া মূল্যে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

অভিভাবকদের মতে, প্রতিষ্ঠান দু’টি সরকারি হওয়ার পর থেকে মানসম্মত শিক্ষার আশা থাকলেও শিক্ষক সঙ্কটের কারণে তা পূরণ হচ্ছে না।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ বা বদলি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ শূন্যতা পূরণ না করলে এলাকার মাধ্যমিক শিক্ষার ভীত দুর্বল হয়ে পড়বে।

এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কাউখালী সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সঙ্কটের কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তাছাড়া আমি জেলা প্রশাসক মহোদয় ও স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর স্যারকে অবহিত করেছি। আশা করা যায় সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’