পিরোজপুরের উপজেলা সদরে অবস্থিত কাউখালীতে ভবন সঙ্কটে বিপাকে কাউখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা অর্ধেকেরও কম থাকায় বালুর ওপর চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এতে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অস্থায়ী ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় কক্ষের অভাবে সপ্তম, নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বালুর ওপর ক্লাস করতে হচ্ছে। তীব্র গরম আর ধুলোবালির মধ্যেই শিক্ষকরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে দীর্ঘক্ষণ বালুতে বসে থাকায় শিক্ষার্থীদের শ্বাসকষ্ট ও এলার্জিসহ বিভিন্ন চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ছে। বাতাসের সাথে ওড়া বালুর কারণে বই-খাতা যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি মনোযোগ ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুমাইয়া, সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী পূজা দাস ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিদ জানায়, বাতাসের বালু চোখে মুখে যায়, গরমে মাথা ঘোরে। এভাবে বেশিক্ষণ পড়াশোনায় মন দেয়া যায় না।
অভিভাবকদের দাবি, ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে এসেও যদি শিক্ষার্থীদের বালুর ওপর বসে ক্লাস করতে হয়, তবে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা অসম্ভব। তারা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে এ সঙ্কট নিরসনের দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাইনুল ইসলাম মনির মোল্লা বলেন, ‘আমরা নিরুপায়। ভবন সঙ্কটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে। শ্রেণিকক্ষ না থাকায় আমরা বাধ্য হয়েই বালুর উপরে ক্লাস নিচ্ছি। শিক্ষার্থীদের কষ্ট আমাদেরও ব্যথিত করে, কিন্তু পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকলে আমরা কী করতে পারি?’
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, অতি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না করলে ঝরে পড়ার হার বাড়তে পারে। ওই প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই শ’র বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে।
ভবন সঙ্কটের পাশাপাশি শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে। ইংরেজি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ভৌতবিজ্ঞানসহ পাঁচ বিষয়ের শিক্ষক নেই। প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় বেঞ্চ, ব্ল্যাকবোর্ড, টেবিল, চেয়ারসহ আসবাবপত্রের অভাব রয়েছে।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমি আপনাদের মাধ্যমে অবগত হয়েছি। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আমি অবিলম্বে কার্যকরী ব্যবস্থা নেব।’



