ফেনীর দাগনভূঞায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে এবং পরিবারের শাসনে ক্ষিপ্ত হয়ে মায়ের ওপর পৈশাচিক হামলা চালিয়েছে এক মাদকাসক্ত যুবক। ছেলের ছুরিকাঘাতে মা লাকি বেগম (৪৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত বাবা ও বোনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দাগনভুঞার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামের মকবুল আহমদ হুদুর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ঘাতক ছেলে মোহাম্মদ রাফিককে (২১) রক্তমাখা ছুরিসহ আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রাফিক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। রোববার রাতে সে বাড়িতে এসে মাদক সেবনের জন্য মায়ের কাছে টাকা চায়। মা টাকা দিতে অস্বীকার করলে এবং তার বেপরোয়া চলাফেরা নিয়ে শাসন করলে রাফিক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে অনলাইনে অর্ডার করে কেনা ধারালো ছুরি দিয়ে সে মায়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মাকে বাঁচাতে বোন মিথিলা মোস্তফা (১৮) এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে বাবা মোহাম্মদ মোস্তফা (৫৫) তাদের রক্ষা করতে গেলে ঘাতক রাফিক তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে রাফিককে ধাওয়া করে আটক করে এবং পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মা লাকি বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহরিয়ার কবির জানান, হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান নয়া দিগন্তকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক রাফিককে আটক করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দু’টি ছুরি জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাফিক অনলাইনে ছুরি কেনার কথা স্বীকার করেছে। নিহত নারীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



