চট্টগ্রামের আনোয়ারায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মৃতের শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলছে, গৃহবধূ লিলি আকতার (২৯) অভিমান করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে তার পরিবারের দাবি, লিলির স্বামী তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ বন্দর এলাকার বোচা তালুকদারবাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, গৃহবধূ লিলি আকতার উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক এলাকার শাহবাড়ির কামাল উদ্দিন শাহর মেয়ে। ২০১৭ সালে লিলির সাথে একই ইউনিয়নের মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে আট বছরের এক ছেলে ও চার বছরের এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে নিজের শয়নকক্ষে বৈদ্যুতিক পাখার সাথে গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় লিলি আকতারের লাশ ঝুলছিল। লাশ দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে বিষয়টি জানান। এরপর দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, লিলি আকতার আত্মহত্যা করেছেন। তবে লিলির পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বৈদ্যুতিক পাখার সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
মৃত গূহবধূর স্বামী মহিউদ্দিন জাহাঙ্গিরের দাবি, আমি ঘরের দ্বিতীয় তলায় ছিলাম। সকালে নিচে নেমে দেখি, লিলির শরীর ফ্যানের সাথে ঝুলছে।
লিলির ছোট ভাই মোহাম্মদ পারভেজ উদ্দিন শাহ অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার বোনকে শাশুড়ি, স্বামী ও ননদ মিলে নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের কারণে প্রায়ই লিলি বাবার বাড়িতে চলে আসতেন। কয়েকদিন আগেও নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।
তিনি আরো বলেন, সোমবার রাতে মহিউদ্দিনসহ অন্যরা মিলে আমার বোনকে মারধর করে এবং আমাকে ফোন করে বলে ‘তোমাদের বোনকে নিয়ে যাও, না হলে মেরে ফেলব।’ আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দেইনি। সকালে শাশুড়ি ও ননদ এসে জানায়, সে আত্মহত্যা করেছে।
তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার বোনকে খাটের ওপর মৃত অবস্থায় দেখতে পান। যদি আত্মহত্যা করে থাকে, তাহলে তাকে নামালো কে এ প্রশ্নের কোনো উত্তর তারা দেয়নি। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: শাহীনূর আলম নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসলে হত্যা না আত্মহত্যা জানা যাবে। মঙ্গলবার রাতে নিহতের ভাই আত্মহত্যার প্ররোচনা আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় তার স্বামীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।‘



