ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামের এক তরুণ নিজের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় তৈরি করেছেন মোবাইল অ্যাপ, যা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
আব্দুল কাইয়ুম মিয়ার ছেলে শুভ ছোটবেলায় স্থানীয় প্রাইমারি স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি শেষ করে নবীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। তবে পারিবারিক সমস্যার কারণে তার শিক্ষাজীবন সেখানেই থেমে যায়। কিন্তু থেমে থাকেনি তার শেখার আগ্রহ।
শুভ জানান, প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি ইতোমধ্যে দু’টি মোবাইল অ্যাপ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে ‘তরুণ হিরো’ নামের একটি অ্যাপ প্লে স্টোরে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
অ্যাপটি পর্নোগ্রাফি প্রতিরোধ এবং মোবাইল আসক্তি কমাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে ‘কিডস লঞ্চার’ নামে আরেকটি অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে। এটি সম্পন্ন হলে শিশুদের মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা সহজ হবে এবং অপ্রয়োজনীয় বা নিষিদ্ধ অ্যাপ ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা তৈরি করবে।
শুভ বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই সফটওয়্যার তৈরির প্রতি তার আগ্রহ জন্ম নেয়। স্মার্টফোন পাওয়ার পর শুরুতে গেমসে আসক্ত হয়ে পড়লেও, পরবর্তীতে গেমসের বিভিন্ন সংস্করণ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে আগ্রহ তৈরি হয়।’
বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে তিনি নিজ উদ্যোগে শিখে মোবাইল অ্যাপ তৈরির দিকে মনোনিবেশ করেন।
স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সীমিত হলেও শুভর এই উদ্যোগ তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হতে পারে। প্রযুক্তিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করে সমাজে পরিবর্তন আনার এমন প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার।



