ছবি ভাইরাল করায় আমতলীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা

সোমবার সন্ধ্যায় ওই পরীক্ষার্থী গোসল খানার আড়ার সাথে গলায় ওড়না দিয়ে আত্মহত্যা করে। ওই রাতেই স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা

Location :

Amtali
শারমিন আক্তার
শারমিন আক্তার |নয়া দিগন্ত

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা

বরগুনার আমতলীতে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জোর করে জড়িয়ে ধরার ছবি ভাইরাল করায় শারমিন আক্তার (১৭) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলার সেকান্দার খালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

জানা গেছে, আমতলী উপজেলা সেকান্দারখালী গ্রামের বাসিন্দা গাড়ি চালকের মেয়ে কলাপাড়া উপজেলার খেপুপাড়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীকে একই গ্রামের শফি হাওলাদারের ছেলে আমতলী সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র জিসান প্রেমের প্রস্তাব দেয়। অপর দিকে কলাপাড়া উপজেলার রজপাড়া গ্রামের সাইদুল হাওলাদারের ছেলে আরাফাত ওই পরীক্ষার্থীর ছোট বোনকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু উভয় বোনই তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

এতে জিসান ও আরাফাত ক্ষিপ্ত হয়। কয়েকদিন আগে ওই পরীক্ষার্থী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় কলাপাড়া যাচ্ছিল। মাঝ পথে জিসান ও আরাফাত ওই রিকশায় উঠে। তারপর জোরপূর্বক জিসান তাকে জড়িয়ে ধরে তার মোবাইলে ছবি তুলে। পরে দুইজনের সাথে তারা দুই বোন প্রেম না করলে ছবি ভাইরাল করে দেয়ার হুমকি দেয়। তারপরও তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়নি দুই বোন।

গত বুধবার ওই ছবি জিসান ম্যাসেঞ্জারে ভাইরাল করে দেয়। এদিকে গত রোববার জিসান ওই পরীক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেয় বলে দাবি এসএসসি পরীক্ষার্থীর বাবার।

সোমবার সন্ধ্যায় ওই পরীক্ষার্থী গোসল খানার আড়ার সাথে গলায় ওড়না দিয়ে আত্মহত্যা করে। ওই রাতেই স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। নিহতের লাশ পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকেলে পরিবারের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে। ওইদিন রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে।

এসএসসি পরীক্ষার্থীর এমন মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সাথে জড়িত জিসান ও আরাফাতের শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী। আত্মহত্যার প্ররোচনার অপরাধে অভিযুক্তদের আসামি করে আমতলী থানায় মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নিহতের বাবা।

স্থানীয় হারুন খাঁন বলেন, ‘বখাটে জিসান ও আরাফাত দুই মেয়েকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো। ওদের কারণেই মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে। দুই বখাটের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।’

নিহতের মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়েকে জিসান ও আরাফত জোরপূর্বক মোবাইলে ছুবি তুলে ভাইরাল করে দিয়েছে। গত রোববার বিকেলে আমার মেয়েকে ডেকে নিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছে। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হলে কুপিয়ে ১০ টুকরা করে মেরে ফেলবে। ওদের কারণেই আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।’

তিনি আরো বলেন, আমার বড় মেয়েতো চলে গেছে এখন ছোট মেয়েকে নিয়ে কি করবো তা ভেবে পাচ্ছি না? আমি আমার মেয়ে হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।’

আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’