ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় উদ্ধার হওয়া জনৈক নারীর লাশের পরিচয় শনাক্তের পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উৎঘাটন এবং হত্যাকারীকে গ্রেফতার করেছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ।
হত্যার শিকার ওই গৃহবধূর নাম হাসিনা পারভীন মিনু (৪৭)। সম্প্রতি তাকে হত্যার পর লাশ ফেলে রেখে যায় হত্যাকারী। সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ ঘটনায় আসামি আনিছুর রহমানকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ভাঙ্গা থানাধীন পুলিয়া ব্রিজ সংলগ্ন সূর্যনগর সার্ভিস লেনের উত্তর পাশে আড়িয়াল খাঁ নদীর ঢাল থেকে এক অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নির্দেশে এসআই মো: মোশারফ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতের ছেলে থানায় এসে লাশটি তার মা হাসিনা পারভীন মিনুর বলে নিশ্চিত করেন এবং মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে জানা যায়, নিহত মিনু নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার তুষারধারা আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি ফোনকল পেয়ে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি।
পুলিশ অনুসন্ধানে গিয়ে জানতে পারে, তুষারধারা এলাকায় ক্রয় করা একটি জমি ও সেখানে নির্মিত টিনশেড ঘর নিয়ে আসামি আনিছুর রহমানের সাথে নিহতের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি নিজের নামে নেয়ার অভিযোগে মিনু আদালতে মামলা করেছিলেন।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আনিছুর রহমান হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন তিনি মিনুকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের করে মোটরসাইকেলে করে পদ্মাসেতু পার হয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে মিনুকে হত্যা করেন এবং লাশ ফেলে পালিয়ে যান।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোশাররফ হোসেন বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জ এলাকা থেকে আনিছুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়। আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছে।



