সালাহউদ্দিন! একটি নাম—একটি সাহসী তীরন্দাজের বজ্র হুংকার। অগণন মানুষের মুক্তির সংগ্রামে যারা যুগে যুগে জীবনকে রেখেছে বাজি, তাদের মতো বিপ্লবী সেনাদের নেপথ্য প্রেরণার অনিবার্য নাম ‘মা’।
মা যখন সাহসের কাফন তুলে দেন ছেলের হাতে—তখন মৃত্যু হয়ে যায় ছেলেবেলার বনভোজনের মতো উৎসব! তেমনই এক তরুণ বিপ্লবীর নেপথ্য প্রেরণার বাতিঘর মা বলছেন,
‘সালাহউদ্দিনকে নিয়ে ১৫ই জুলাই পর্যন্ত আমার অনেক বেশি চিন্তা হত। যেদিন আবু সাঈদ শাহাদাত বরণ করলেন, সেদিনই আমি আমার একমাত্র ছেলেকে দেশের মানুষের জন্য দিয়ে দিয়েছি।
‘আমার সন্তানকে কেউ ঘৃণা করলে সেটি দলের জন্য ঘৃণা করে, আর তাকে ভালোবাসলে দেশের জন্য ভালোবাসে।’
আমি আমার জীবনে অনেক কিছু দেখেছি। আমার আপন ভাইকে বিএনপি করার কারণে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটাতে দেখেছি। আমার স্বামীকে জামায়াতে ইসলামী সমর্থনের কারণে কোমরে দড়ি বেঁধে টানতে টানতে নিয়ে যেতে দেখেছি! যে নির্যাতনের জেরস্বরূপ তিনি আর সুস্থ হতে পারেননি।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে এক রকম পরিস্থিতির শিকার হয়ে ২০১৮ সালে সালাহউদ্দিনকে একরকম চুপিচাপি আমার কাছ থেকে দূরে পাঠিয়ে দিয়েছি।
আপনারা অনেকে তার কাজকর্মে বিরক্ত হন, আবার অনেকে পোস্ট ও কমেন্ট করেন— ২০২৪-এর আগে কোথায় ছিলি?
তার কৈশোর কেড়ে নিয়েছে ফ্যাসিস্ট লীগ। এই ইস্যুগুলো দেখতে দেখতে তার জীবনে কারো জন্য, এমনকি নিজের জন্যও কোনো বিন্দুপরিমাণ আবেগ নেই। শাহবাগে তার রক্তাক্ত ছবিটা দেখেও বোঝেননি আপনারা!
তাকে থামতে বলতে বলতে আমিও চলতে শিখে গেছি, থামতে আর বলি না—চলতে থাকুক। এখন শুধু নামাজান্তে দোয়া করি, আল্লাহ যখন তাকে নিয়ে যাবেন তখন যেন আমি তাকে হাসিমুখে বিদায় দিতে পারি।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব সালাহউদ্দিন আম্মারের পরিবার নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। ১৬ জুলাই ২০২৪ থেকে ৪ঠা আগস্ট পর্যন্ত আমাকে আর তার বাবাকে ঘরবন্দী করে রেখেছিল লীগ আর ডিবি। তার বাবার ওষুধ পর্যন্ত নিতে দেয়নি। তাদের একটাই কথা ছিল— সালাহউদ্দিনকে যেন ফিরিয়ে নিয়ে আসি, না হলে আমার স্বামীকে মেরে ফেলবে। আমি সেদিনও তাকে থামতে বলতে পারিনি। আপনাদের এই হুমকির সাথে আমি পরিচিত।
ছেলের জন্য আমাকে মারবেন? নাকি আমার অসুস্থ স্বামীকে মারবেন? আল্লাহ সবকিছুই দেখছেন।
আমাকে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী জিডি করার পরামর্শ দিয়েছেন— প্রয়োজন হলে করব। তবে নিরাপত্তার জন্য নয়, জাহেলি যুগের মতো ইতিহাসের সাক্ষী থাকার জন্য। আমার পরিবারের কোনোদিন কিছু হলে যেন এই জিডির কপি দেখে বাংলাদেশের বিপ্লবী সন্তানদের মা-বাবারা সাহস পান।
বললাম না— বিএনপি করার কারণে আমার আপন ভাইকে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটানো হয়েছিল। সেই ভাই এখন সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে মিছিলে নেতৃত্ব দেয়। এটা দেখে আমি বুঝে গেছি, যেই ক্ষমতায় আসুক সালাহউদ্দিন তাদের ক্ষমতাকে প্রশ্ন করবে, আর যত বড় রক্তের মানুষ হোক না কেনো, তখন তার বিরুদ্ধে কথা বলবে।
আমি একজন বিপ্লবী দেশপ্রেমিকের মা হয়ে বলব—রাজনীতি করুন, এটি আপনার অধিকার। সব দল, মত ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতি করুন, তবে সেটি যেন ইতিবাচক হয়। শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে যেন আমরা বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে দেখতে পাই।’



