রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বদ্ধ জলাশয়ে মাছ চাষির বিষ প্রয়োগে ভেসে ওঠা মরা মাছ খেয়ে খামারিসহ প্রতিবেশীর ৩৪০টি হাঁস মারা পড়েছে। রোববার বিকেল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ওই হাঁসগুলো মারা গেছে। এখনো অনেক হাঁস অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ক্ষতিগ্রস্ত খামারি শামসু মোল্লা (৬৫) গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অভিযোগ করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মাছ চাষিরা পলাতক রয়েছেন।
জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের পূর্ব ছোটভাকলা গ্রামের বাসিন্দা সামছু মোল্লা (৬৫) ও তার স্ত্রী ধার-দেনা করে প্রায় ৫০০ হাঁস লালন পালন করে আসছিলেন। চার মাস আগে হাঁস পালনের জন্য উপজেলার উজানচর নতুন পাড়া এলাকার উন্মুক্ত জলাশয়ের কাছে আসেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০০ হাঁস ডিম পাড়ার উপযোগী ছিল।
স্থানীয় শাহিন সরদারের বাড়ির সামনে বদ্ধ জলাশয়ের পাশে নেট দিয়ে খোয়াড় তৈরী করে খামারের একপাশে তারা দু’জনে রাত্রি যাপন করেন। দিনে জলাশয়ের পানিতে হাঁস ছেড়ে দেন। রাতে নদীর পাড়ে গড়ে তোলা ওই খামারে হাঁস রেখে রাত্রি যাপন করেন। প্রাকৃতিক খাবারের পাশাপাশি বাজার থেকে তারা প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকার ধান, ভুট্টা ও ফিড খাবার কিনে খাওয়ান। এতে বিভিন্ন দোকানে চার লক্ষাধিক টাকা তারা বাকি করেছেন। ডিম বিক্রি করে ওই টাকা পরিশোধ করার কথা রয়েছে।
শামছু মোল্লা বলেন, ‘রোববার রাতে হাঁসগুলো খামারে আসার পর দ্রুত অসুস্থ হয়ে মরতে থাকে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত ডিম পাড়া ২০০টির বেশি হাঁস মরে যায়। ১০০টির মতো হাঁস নিস্তেজ হয়ে পড়ায় দ্রুত জবাই করি। এখনো কিছু হাঁস অসুস্থ হয়ে ঝিমাচ্ছে। পরে জানতে পারি, স্থানীয় আব্দুল মান্নান (৫০) ও আব্দুস সাত্তার (৬০) নামে দুই মাছ চাষি আমাদের পাশে লিজ নেয়া জলাশয়ে বিষ দিয়ে মাছ ধরেছে। বিষাক্ত পানিতে ভেসে ওঠা অবশিষ্ট ছোট মাছ খেয়ে হাঁসগুলো মারা গেছে।’
বিষ প্রয়োগে মাছ ধরার বিষয়টি জানা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
মাছ চাষিদের প্রতিবেশী শাহিন সরদার বলেন, ‘আমি ও আমার প্রতিবেশী হযরত আলী সাদা রঙের বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালতাম। বিষ দেয়া জলাশয়ের মাছ খেয়ে আমাদের দুই পরিবারের প্রায় ৪০টি হাঁস মরেছে। কিছু হাঁস জবাই করেছি, আরো কিছু অসুস্থ। রোববার আব্দুল মান্নান ও ছাত্তার পুকুরে বিষ দিয়েছে। আগে জানালে আমরা হাঁস ছাড়তাম না। এখন আমাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’
গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘সরেজমিন খোঁজ নিয়ে আমরা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



