বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশে প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনের পর দেশ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে এবং কোথাও কোনো সংঘাত তৈরি হবে না-এমন প্রত্যাশা ছিল, তবে বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও যেসব এলাকায় তাদের প্রার্থী নির্বাচিত হয়নি, সেখানে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) টঙ্গীর গাজীপুরায় ট্রাস্ট্র মিলনায়তনে টঙ্গী পূর্ব থানা জামায়াতের রোকনদের জন্য আয়োজিত দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানে সরকারপন্থী ছাত্রসংগঠন পরাজিত হয়েছে, সেখানে তাদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠন, বিশেষ করে ছাত্রশিবিরসহ অন্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে।’
এতে সার্বিক পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে এবং অরাজকতার পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ প্রেক্ষাপটে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান এবং কোনো ধরনের সংঘাতে না জড়ানোর নির্দেশনা দেন।
একই সাথে তিনি সতর্ক করে বলেন, জামায়াত ও শিবিরের সাংগঠনিক শক্তি বিবেচনায় পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তা দেশের জন্য বড় ধরনের অস্থিরতা, এমনকি গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে আমরা এর উপযুক্ত জবাব দিতে বাধ্য হবো।’
অনুষ্ঠানে টঙ্গী পূর্ব থানা জামায়াতের আমির নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন এবং গাজীপুর-৪ আসনের এমপি ও সাবেক ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি সালাহউদ্দীন আইয়ুবী।



