তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে কার্যত বন্ধের উপক্রম হয়েছে উপকূলে মাছ শিকার। ডিজেলের অভাবে ট্রলার নিয়ে সাগর ও নদীতে যেতে পারছেন না জেলেরা, ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে মৎস্য পল্লীগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম।
জেলেরা জানান, অনেকেই ট্রলার নিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও জ্বালানির অভাবে ঘাটেই ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। আগে প্রতিদিন শত শত ট্রলার মাছ নিয়ে ঘাটে ভিড় করলেও বর্তমানে সেখানে বিরাজ করছে অচলাবস্থা। এর প্রভাব পড়েছে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতেও—লোকসানে পড়েছেন বরফকলের মালিক ও শ্রমিকরা।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, জ্বালানি সঙ্কটের কারণে বঙ্গোপসাগরগামী ট্রলার ও উপকূলীয় ছোট নৌযানগুলোর মাধ্যমে মাছ আহরণ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে গেছে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্য অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এই খাতের ওপর নির্ভরশীল হাজারো মানুষের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গাবালী উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮০৯ জন। এর বাইরে আরো প্রায় ৩ হাজার জেলে এই পেশার সাথে জড়িত। এদিকে এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে টানা ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।
জেলেরা বলেন, গভীর সমুদ্রে এক সপ্তাহ মাছ শিকারে যেতে হলে একটি ট্রলারে ১ হাজার থেকে ১২০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে অনেক ট্রলার মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০ লিটার ডিজেল সংগ্রহ করতে পারছে, যা দিয়ে দুই দিনের বেশি সাগরে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাঝপথেই ফিরে আসতে হচ্ছে। এতে ট্রলারে থাকা ১৮ থেকে ২০ জন জেলে ও মাঝিমাল্লা কাজ না পেয়ে অলস সময় কাটাচ্ছেন, আর তাদের খরচ বহন করতে হচ্ছে ট্রলার মালিকদের।
উপজেলায় তেলের পাম্প না থাকায় জ্বালানি সংগ্রহে আরো ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে জেলেদের। অনেকে বাধ্য হয়ে ট্রলার ছেড়ে দিনমজুরির কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এদিকে সামনে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে হালখাতা থাকায় জেলেদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও মাছ ধরার উপকরণ কেনায় আগের বকেয়া পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
রাঙ্গাবালী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুন নবি বলেন, জ্বালানি সঙ্কটেএ অঞ্চলে মাছ আহরণ ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হলে দ্রুত এই সঙ্কট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
বর্তমানে কিছু নৌযান বিভিন্ন ঘাট থেকে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করে সাগরে গেলেও তারা অল্প পরিমাণ মাছ নিয়েই ফিরছে। অধিকাংশ ট্রলারই ঘাটে নোঙর করে অলস পড়ে রয়েছে, যা উপকূলীয় মৎস্য খাতের গভীর সঙ্কটের চিত্র তুলে ধরছে।



