মানিকগঞ্জে মহাসড়কের পাশে জমজমাট বাঙ্গির হাটে প্রাণচাঞ্চল্য

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শাহজাহান সিরাজ জানান, কৃষকদের নিরাপদ উৎপাদনে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক ছাড়াই উৎপাদিত হওয়ায় এখানকার বাঙ্গির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)

Location :

Ghior
ঘিওরে মহাসড়কের পাশে কৃষকের টাটকা বাঙ্গি বিক্রি
ঘিওরে মহাসড়কের পাশে কৃষকের টাটকা বাঙ্গি বিক্রি |নয়া দিগন্ত

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ডে বসেছে মৌসুমি বাঙ্গির হাট। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে এই অস্থায়ী বাজার। স্থানীয় কৃষকেরা ক্ষেত থেকে সদ্য তোলা টাটকা ও ফরমালিনমুক্ত বাঙ্গি সরাসরি নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী না থাকায় কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন, আর ক্রেতারাও পাচ্ছেন নিরাপদ ফল। প্রতিদিন শতাধিক কৃষক এই হাটে বাঙ্গি বিক্রি করেন।

ষোলধারা গ্রামের কৃষক সেন্টু মিয়া জানান, ক্ষেত থেকে তুলে সরাসরি বিক্রি করায় খাজনা বা ফরিয়াদের ঝামেলা নেই। ফলে টাটকা বাঙ্গির বিক্রি ভালো হয় এবং দামও সন্তোষজনক।

একই গ্রামের কৃষক আলাল সিকদার বলেন, আকার ও মানভেদে প্রতিটি বাঙ্গি ৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেলে জাতের বাঙ্গির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ক্রেতাদের মধ্যেও এই বাজার নিয়ে আস্থা তৈরি হয়েছে।

মহাসড়কে প্রাইভেটকার নিয়ে সপরিবারে রাজবাড়ি থেকে ঢাকা ফিরছিলেন মিজানুর রহমান। বাঙ্গির হাট চোখে পড়তেই গাড়ি থামিয়ে দরদাম করে দু’টি বড় বাঙ্গি কিনলেন ৫০০ টাকা দিয়ে।

তিনি বলেন, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কিনতে পারছি- এটাই বড় বিষয়।

স্থানীয়দের মতে, খুচরার পাশাপাশি পাইকারি বেচাকেনাও বাড়ছে। প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার বাঙ্গি এখান থেকে জেলার বিভিন্ন আড়ত ও রাজধানীতে যাচ্ছে।

ঘিওর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, বানিয়াজুরী ইউনিয়নে বেলে-দোআঁশ ও ঢালু জমি বাঙ্গি চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় ফলন ভালো হচ্ছে। কম খরচে লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। নিয়মিত পরামর্শও দেয়া হচ্ছে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টু বলেন, কৃষকরা সরাসরি বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। বাজারটি আরো সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শাহজাহান সিরাজ জানান, কৃষকদের নিরাপদ উৎপাদনে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক ছাড়াই উৎপাদিত হওয়ায় এখানকার বাঙ্গির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।