রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানা এলাকার মন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিতরণকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ জনতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে রাস্তায় আটকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে এই সংঘর্ষে স্থানীয় যুবদল নেতাসহ অন্তত চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে রুহিয়া থানা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলমের নাম জানা গেছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিতরণে সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম মানা হচ্ছিল না। অভিযোগ ওঠে, সাধারণ গ্রাহকদের তেল দেয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে। কাউকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার তেল দেয়া হলেও অনেককে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার তেল দিয়ে বিদায় করা হচ্ছিল। এছাড়া মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই না করেই প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে একই গাড়িতে বারবার তেল দেয়ার অভিযোগে উপস্থিত জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান কবির। তিনি অনিয়মের অভিযোগে কয়েকটি মোটরসাইকেল আটক করলে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়। একপর্যায়ে ঢোলারহাট ইউনিয়ন ও রুহিয়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুত ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের পর রাত পৌনে ৭টার দিকে তেল বিতরণ স্থগিত রেখে ম্যাজিস্ট্রেট চলে যেতে চাইলে উত্তেজিত জনতা সড়কে বাঁশ ফেলে তার পথরোধ করে। এসময় জনতা তেলের মজুত ও বিতরণের সঠিক হিসাব দাবি করলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। পরে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান কবির সাংবাদিকদের জানান, ফিলিং স্টেশনে ৩৮৪ লিটার পেট্রোল অবশিষ্ট ছিল। তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেই তেল বিতরণ করা হয়।
রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদিউজ্জামান জানান, বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।



