নাঙ্গলকোটে বৃষ্টির পানিতে ভাসছে কৃষকের পাকা ধান

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে চার দিনের টানা বৃষ্টিতে কৃষকের স্বপ্নের ইরি-বোরো ধান পানিতে ভাসছে। চলতি ইরো-বোরো মৌসুমে ধান কাটার মৌসুমে ভারি বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন কৃষক।

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

Location :

Nangalkot
নাঙ্গলকোটে বৃষ্টির পানিতে ভাসছে কৃষকের পাকা ধান
নাঙ্গলকোটে বৃষ্টির পানিতে ভাসছে কৃষকের পাকা ধান |নয়া দিগন্ত

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে চার দিনের টানা বৃষ্টিতে কৃষকের স্বপ্নের ইরি-বোরো ধান পানিতে ভাসছে। চলতি ইরো-বোরো মৌসুমে ধান কাটার মৌসুমে ভারি বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন কৃষক।

গত তিন মাস ধরে ধান রোপণ থেকে শুরু করে পানি দেয়া, আগাছা পরিষ্কার, সার ও কীটনাশক প্রয়োগের পর পাকা ধান কাটার সময় শুরু হয় টানা বৃষ্টি। পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকদের দুঃচিন্তায় দিন কাটাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে মাঠের পর মাঠ পাকা কাটা ধান বৃষ্টির পানিতে ভাসতে দেখা যায়। এতে কৃষকদের লাখ লাখ টাকা ক্ষতির দুঃচিন্তায় থাকতে হচ্ছে। কোথায়ও কৃষককে বৃষ্টির পানিতে ভেসে থাকা পাকা ধান মাঠ থেকে তুলে ক্ষেতের আইলে অথবা সড়কে রাখতে দেখা যায়। এতে করে বেশ কিছু ধান ঝরে যাচ্ছে এবং খড় পচে যাচ্ছে। আবার ভ্যানগাড়ি করে বাড়িতে ধান নিয়ে যাওয়া, মাড়াই ও শুকানো নিয়েও তাদেরকে দুঃচিন্তায় থাকতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ১৩ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। গত এক সপ্তাহ পূর্বেও নাঙ্গলকোট পৌরসভাসহ ১৬টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে ইরি-বোরো ধানের জমিতে পাকা সোনালী ধান বাতাসে দোল খেতে দেখা যায়। অন্য বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে প্রতিটি এলাকায় ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করেন কৃষকরা। কিন্তু ফসল কাটার মূহুর্তে অবিরাম বৃষ্টি তাদের সোনালী ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন হুমকিতে ফেলে দেয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টি বন্ধ না হলে উপজেলার অধিকাংশ কৃষকের ইরি-বোরো ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার সকালে উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের বাঙ্গড্ডা গ্রামের কৃষক অহিদুর রহমানকে রামেরবাগ মাঠ থেকে বৃষ্টির মধ্যে তার ৬০ শতাংশ জমির কাটা ধান পানি থেকে তুলে পাশের সড়কে রাখতে দেখা যায়।

তিনি বলেন, চারদিন পূর্বে ধান কেটে জমিতে রেখেছেন। টানা বৃষ্টিতে কাটা ধান ঘরে তুলতে পারেননি। বাধ্য হয়ে আজকে ধান তুলে বাড়িতে নেয়ার চেষ্টা করছি। এতে করে অনেক ধান ঝরে যাচ্ছে। আবার ধান মাড়াই ও শুকানো নিয়েও তাকে দুঃচিন্তায় থাকতে হচ্ছে।

এভাবে নাঙ্গলকোট পৌরসভাসহ বাঙ্গড্ডা, পেড়িয়া, রায়কোট উত্তর, রায়কোট দক্ষিণ, মৌকরা, ঢালুয়া, বক্সগঞ্জ, বটতলী, দৌলখাঁড়, মক্রবপুর, হেসাখাল, আদ্রা উত্তর, আদ্রা দক্ষিণ, জোড্ডা পূর্ব ও জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মাঠের পর মাঠ কৃষকদের পাকা ধান কোথায়ও মাঠে কেটে রাখা হয়েছে, আবার কোথায় পাকা ধান বাতাসে হেলে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের রামেরবাগ গ্রামের কৃষক ফরিদের ৭২ শতাংশ, ইমাম হোসেনের ২৪ শতাংশ, জসিমের ৮৪ শতাংশ, আলী আশ্বরের ৮৪ শতাংশ, আবু তাহেরের ৩৬ শতাংশ জমির ধান পানিতে ভাসছে।

কৃষক ফরিদ জানান, ৭২ শতাংশ জমিতে বিআর-১০০ ধানের আবাদ করেছি। গত চারদিন আগে ধান কাটার পর বৃষ্টিতে কাটা ধান ভাসছে। ধানের বীজ বপন, পানি দেয়া, সার, কীটনাশক প্রয়োগ ও ধান কাটায় প্রতি ছয় শতকে তিন হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। ধান ঘরে তুলতে না পারলে আমাকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ‘গত ১০দিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কৃষকদের ধান কাটা নিয়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করা হয়। কিন্তু কৃষকরা আবহাওয়ার পূর্বাভাস না মেনে ধান কাটেন। এ পর্যন্ত প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।’