কাউখালীতে মাছ-মাংসের দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে

রমজান মাসকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মাছ-মাংসের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। ফলে বাজার করতে আসা অনেক ক্রেতারাই মাছ না কিনে খালি ব্যাগ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

Location :

Pirojpur
উপজেলার দক্ষিণ বাজার
উপজেলার দক্ষিণ বাজার |নয়া দিগন্ত

পিরোজপুরের কাউখালীতে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে মাছ-মাংসের দাম ঊর্ধ্বমুখী। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার দক্ষিণ বাজারে হাটের দিনে মাছের ও মাংসের বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, রুই মাছ ৩২০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, কাতল মাছ ২৮০ টাকা, পাবদা ৩২০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, কোরাল মাছ ৭৫০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকা, দেশী টেংরা ৬০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৬০ টাকা, পোমা ৩৫০ টাকা, চিংড়ি মাছ প্রকারভেদে ৭০০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, ইলিশ মাছ ৬০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মাংস বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ২৮০ টাকা, কক ৩০০ টাকা, বয়লার ১৮০ টাকা ও প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রমজান মাসকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মাছ-মাংসের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। ফলে বাজার করতে আসা অনেক ক্রেতারাই মাছ না কিনে খালি ব্যাগ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা মাছ-মাংস খাওয়া এক প্রকার ছেড়ে দিয়েছে বলে মাছ কিনতে আসা ক্রেতা আবুল বাশার জানান।

দিনমজুর শুকুর আলী বলেন, ‘মাংস খাওয়া আমরা ভুলে গেছি। মাংস বর্তমানে বড় লোকের খাবার।’

মাছ ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী বলেন, ‘মাছের চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম। স্থানীয় পর্যায়ে মাছ কম থাকায় আমরা বাইরের মাছের ওপর নির্ভরশীল, তাই দাম একটু বেশি।’

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা দুর্বল থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছা মতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন।

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আসাদুজ্জামান জানান, বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যদি কোনো অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।