বরিশালের বাকেরগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমিতে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় হালিম হাওলাদার (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো অন্তত চারজন।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হালিম হাওলাদার ওই গ্রামের মরহুম সিরাজ উদ্দিন হাওলাদারের মেজ ছেলে। আহতরা হলেন— নিহতের ছোট ভাই মালেক হাওলাদার (৬৫) ও দেলোয়ার হাওলাদার (৫০), ভাগিনা মিজানুর রহমান (৪০) ও স্বজন খবির শিকদার (৫০)।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেলোয়ার হাওলাদারের ক্রয়কৃত একটি জমি নিয়ে এলাকার রিপন হাওলাদার ও আউয়াল মেম্বার গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার বিকেলে দেলোয়ার হাওলাদার ওই জমিতে বালু ভরাটের কাজ শুরু করলে রিপন ও আউয়াল মেম্বারের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
নিহতের চাচাতো ভাই ওপ্রত্যক্ষদর্শী শহিদুল ইসলাম জানান, হামলার একপর্যায়ে হালিম হাওলাদারকে বাঁশ দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর হামলাকারীরা নিষ্ঠুরভাবে তার বুকে বাঁশ দিয়ে খোঁচাতে থাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছোট ভাই দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘আমার নিজের কেনা জমিতে বালু ভরাট করতে গেলে রিপন ও আউয়াল মেম্বারের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের ধারালো অস্ত্র ও লাঠির আঘাতে আমার বড় ভাই মারা গেছেন। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্শন করেছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলি হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’



