লাখো মুমিনের আমিন ধ্বনিতে শেষ হলো চরমোনাইয়ের ৩ দিনব্যাপী মাহফিল

আখেরি মোনাজাতে চরমোনাই পীর ফিলিস্তিন, ভারত, কাশ্মীর, মিয়ানমার, সিরিয়া, ইরান, লেবাননসহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্কটের অবসান ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করেন।

আযাদ আলাউদ্দীন, বরিশাল ব্যুরো

Location :

Barishal
চরমোনাই মাহফিলে আখেরী মোনাজাতের দৃশ্য
চরমোনাই মাহফিলে আখেরী মোনাজাতের দৃশ্য |সংগৃহীত

আখেরি মোনাজাতে লাখো মুমিনের আমিন ধ্বনির মধ্য দিয়ে শেষ হলো চরমোনাই মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ঐতিহাসিক ফাল্গুনের মাহফিল। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সমাপনী অধিবেশন ও আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় লাখ লাখ মুসল্লির এ মিলনমেলা।

এর আগে, গত বুধবার (১ এপ্রিল) বাদ জোহর আমীরুল মুজাহিদীন চরমোনাই পীর মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে শুরু হয় ওই মাহফিল।

সমাপনী অধিবেশনের বয়ানে চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘মানুষ আজ আল্লাহকে ভুলে নাফরমানি করছে অহরহ। অথচ একজন মানুষ কবরে গিয়ে মাফ না পাওয়া পর্যন্ত নিজেকে নিকৃষ্ট পশুর মতো মনে করতে হবে। সুতরাং তাক্বওয়া বা আল্লাহর ভয় অর্জনের মাধ্যমে মহান রবের সন্তুষ্টি নিয়ে কবরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। আল্লাহর ভয় যার অন্তরে নেই ওই মানুষ এমনকি আলেম, মুফতী ও পীরের কোনো মূল্য নেই।’

তিনি বলেন, ‘নিজেকে নিজে ছোট মনে করতে হবে। আমিত্ব ভাব ও তাকাব্বুরী পরিত্যাগ করতে হবে। হিংসা-বিদ্বেষ পরিত্যাগ করতে হবে। ঘোড়ার মুখে যেভাবে লাগাম থাকে সেভাবে রাগের মুখে লাগাম লাগাতে হবে। সকাল-সন্ধ্যা জিকিরের মাধ্যমে ক্বলব পরিশুদ্ধ করতে হবে। গীবতের মতো গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। পরিবারের সবাইকে দ্বীন শিক্ষা দিয়ে দ্বীনের পাবন্দি করতে হবে। পরিবারে খাস পর্দা জারি করতে হবে। সকল প্রকার নেশাজাত দ্রব্য থেকে দূরে থাকতে হবে। আল্লাহওয়ালাদের কিতাব পড়তে হবে। সাপ্তাহিক হালকায়ে জিকির ও তালীমে নিয়মিত অংশ নিতে হবে। ছহীহ শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে।’

সমাপনী অধিবেশনের বয়ানে চরমোনাই মাহফিল বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত সবার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মুফতি রেজাউল করীম। আখেরি মোনাজাতে অংশ নেয়া প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ব্যক্তিবর্গ, সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম ও গণমাধ্যমকর্মীদের মোবারকবাদ জানান তিনি।

আখেরি বয়ানের পর চরমোনাই পীর বিভিন্ন লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় তিনি মুরিদানদের (ভক্ত) সঠিক পথে পরিচালিত হবার বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন। অতঃপর তিনি তাওবা করে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার শপথ করান।

আখেরি মোনাজাতে চরমোনাই পীর ফিলিস্তিন, ভারত, কাশ্মীর, মিয়ানমার, সিরিয়া, ইরান, লেবাননসহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্কটের অবসান ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করেন। পাশাপাশি গত অগ্রহায়ণ মাহফিল থেকে এ পর্যন্ত চরমোনাই মুরিদানদের মধ্য হতে মৃত্যুবরণকারী প্রায় দেড় হাজার মুজাহিদের জন্য বিশেষ দোয়া করেন।

এ বছর মাহফিলে মূল সাতটি বয়ানের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন দেশবরেণ্য বিশিষ্ট ওলামায়ে কিরাম ও পীর মাশায়েখগণ।

উল্লেখ্য, মাহফিলে আসা মুসল্লিদের মধ্যে দু’জন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তারা হলেন— নরসিংদীর মাধবদীর কাটালিয়া এলাকার এমদাদুল হাসান ও টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরের মো: তালহা। উভয়ের জানাজা শেষে মাহফিল হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

চরমোনাই অস্থায়ী মাহফিল হাসপাতালে এ বছর প্রায় দুই সহস্রাধিক মুসল্লির চিকিৎসা দেয়া হয়। এবারের মাহফিলে দু’জন অমুসলিম পীরসাহেব চরমোনাই ও শায়খে চরমোনাইয়ের হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।