উচ্চ আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত না হওয়ার প্রতিবাদে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
সোমবার (১১ মে) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীর টার্মিনালে সড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে ঢাকার সাথে রংপুর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দুই পাশে হাজার হাজার যানবাহন আটকে পড়ে এবং ভ্যাপসা গরমে যাত্রীদের ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
অবরোধে অংশগ্রহণকারী শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও সাধারণ সভা ও নির্বাচন না হওয়ায় শ্রমিকরা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শ্রম দফতর সভার ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা অবরোধে নামে। এছাড়া সকালে কয়েকজন শ্রমিককে মারধরের ঘটনাও আন্দোলনকে উত্তেজিত করে।
অবরোধ চলাকালে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। দুপুরে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উম নবী ডন ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে বৈঠক করেন। তিনি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সাধারণ সভার তারিখ নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে শ্রমিক নেতারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ তুলে নেন।
তারা সাধারণ সভার তারিখ নির্ধারণ ও আহত শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনার আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানান। তবে শ্রমিকদের কর্মবিরতি এবং রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা অব্যাহত থাকে।
অবরোধ শেষে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে আরো দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। যাত্রীদের দুর্ভোগ ভয়াবহে পৌঁছায়।
এক যাত্রী আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘যাত্রীদের জিম্মি করে দাবি আদায়ের এই কৌশল থেকে বের হয়ে আসতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি কেন প্রশাসন মানছে না, কারা বাধা তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।’



