কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় চার আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই মামলায় অপর আসামি ইসমাইল হোসেন জনিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল আদালত-৬-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানা মলি এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) টিটু কুমার নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রোববার (২৬ এপ্রিল) কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে চারজন স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। জবানবন্দি দেয়া আসামিরা হলেন— ইমরান হোসেন হৃদয় (৩৭), মোহাম্মদ সোহাগ (৩০), মোহাম্মদ সুজন (৩২) ও রাহাতুল রহমান জুয়েল (২৭)।
এর আগে, র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম এনতেখাব চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বুলেট বৈরাগীকে একটি সঙ্ঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র যাত্রী সেজে ফাঁদে ফেলে হত্যা করে।
র্যাব জানায়, গত ২৪ এপ্রিল প্রশিক্ষণ শেষে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে বুলেট নিখোঁজ হন। পরদিন ২৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশ। লাশে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামিরা একটি সঙ্ঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তারা দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিতে তুলে অস্ত্রের মুখে ছিনতাই করত।
র্যাব আরো জানায়, ঘটনার দিন রাতে ঝাগুরঝুলি এলাকায় বাস থেকে নামার পর আসামিরা তাকে সিএনজিতে তোলে। পরে নির্জন স্থানে নেয়ার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দিলে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশা, দা, হাতুড়িসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
নিহত বুলেট বৈরাগী কুমিল্লার বিবির বাজার স্থলবন্দরে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।



