মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মাদারগঞ্জবাসী

‘ডাম্পিং স্টেশন কাম বায়োগ্যাস প্লান্টটি হস্তান্তর করা হলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এখনো পৌরসভা পায়নি। এটি পরিচালনার জন্য কারিগরি সহায়তা ও জনবল প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে এটি অকেজো হয়ে আছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

Location :

Madarganj
মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়, নাক চেপে পার হচ্ছে পথচারী
মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়, নাক চেপে পার হচ্ছে পথচারী |নয়া দিগন্ত

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা

জামালপুরের মাদারগঞ্জে মহাসড়কের পাশেই দিনের পর দিন ফেলা হচ্ছে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা। এতে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন পথচারী, ব্যবসায়ী ও আশপাশের বাসিন্দারা।

অপরদিকে পৌরসভার বর্জ্যব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডাম্পিং স্টেশন কাম বায়োগ্যাস প্লান্ট দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে অকেজো অবস্থায়। ফলে জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদারগঞ্জ-জামালপুর মহাসড়কের বালিজুড়ী বাজার ফার্নিচার মোড়ের পাশেই প্রতিদিন বাজারের ময়লা এনে ফেলছে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। ময়লার স্তূপ থেকে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ। সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষ নাক চেপে পথ পার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এলাকাবাসীর দাবি, অপরিকল্পিতভাবে মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ক্ষতির মুখে পড়ছে গাছপালা, পশুপাখি ও জনস্বাস্থ্য। বিশেষ করে গরমের সময় দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ অসহনীয় হয়ে ওঠে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার উৎপাদনের উদ্দেশ্যে মাদারগঞ্জ পৌরসভার শুভগাছা এলাকায় নির্মাণ করা হয় একটি ডাম্পিং স্টেশন কাম বায়োগ্যাস প্লান্ট। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের বাস্তবায়নে নির্মিত এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ৮৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৪৭ টাকা।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স লাবনী কনস্ট্রাকশন প্রকল্পটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করে। সে সময় মাদারগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির। প্রকল্পটির ঠিকাদারি কাজ পান তার ছোট ভাই মেসার্স লাবনী কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মির্জা গোলাম মওলা সোহেল।

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুর ও রবিউল বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময়েই প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে কোনো ময়লা নেয়া হয়নি, উৎপাদন হয়নি জৈব সারও। বর্তমানে ডাম্পিং স্টেশনের ভেতরে ভুট্টা শুকানো হচ্ছে।

স্থানীয় শিক্ষক খালেদুজ্জামান মনি তালুকদার বলেন, ‘আগে ডাম্পিং স্টেশন ঘিরে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকত। বর্তমানে এলাকাবাসীর উদ্যোগে কিছুটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। তবে দ্রুত এটি চালু করা জরুরি।’

ডাম্পিং স্টেশনের ভেতরে ভুট্টা রাখার বিষয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট কিছু বিক্ষুব্ধ লোকজন ভাঙচুর করতে এলে আমি বাধা দিই। এরপরও কয়েকটি পাইপে আগুন দেয়া হয়। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে গেটে তালা লাগানো হয়েছে। আগে এখানে বিভিন্ন এলাকার তরুণরা এসে আড্ডা দিতো ও নেশা করত।’

মাদারগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০২১-২২ অর্থবছরে তিন পৌরসভা প্রকল্পের আওতায় ডাম্পিং স্টেশনটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৩ সালে এটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মূলত পৌরসভার বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার উৎপাদনের উদ্দেশ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।’

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক সুমন চৌধুরী বলেন, ‘ডাম্পিং স্টেশন কাম বায়োগ্যাস প্লান্টটি হস্তান্তর করা হলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এখনো পৌরসভা পায়নি। এটি পরিচালনার জন্য কারিগরি সহায়তা ও জনবল প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে এটি অকেজো হয়ে আছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’