বড়পুকুরিয়ায় আবারো বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ

গত ২৫ এপ্রিল একই ইউনিটে আরেকটি টিউব বিস্ফোরিত হয়ে ছয় দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ ছিল। টিউব পরিবর্তন করে গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরেছিল ইউনিটটি। তার ফলে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছিল ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরেকটি টিউব বিস্ফোরিত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন আবারো বন্ধ হয়ে গেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র |ইউএনবি

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বারবার দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আবারো বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে একমাত্র সচল ছিল ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি। অন্যদিকে পাঁচ বছর ধরে বন্ধ ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর আরেকটি ইউনিট। এ ছাড়াও ওভার হোলিং (রক্ষণাবেক্ষণ) কাজের জন্য বন্ধ রয়েছে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটিও।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কেন্দ্রে ১ নম্বর ইউনিটে বয়লারের আরেকটি টিউব বিস্ফোরিত হয়ে শনিবার (২ মে) রাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বয়লারের গরম পানি শীতল এবং টিউব পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরতে আরো পাঁচ দিন সময় লেগে যেতে পারে।

এর আগে, গত ২৫ এপ্রিল একই ইউনিটে আরেকটি টিউব বিস্ফোরিত হয়ে ছয় দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ ছিল। টিউব পরিবর্তন করে গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরেছিল ইউনিটটি। তার ফলে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছিল ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরেকটি টিউব বিস্ফোরিত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন আবারো বন্ধ হয়ে গেছে। বয়লারে তৈরি বাষ্প ইঞ্জিনে পৌঁছাতে অসংখ্য টিউব রয়েছে প্রতিটি ইউনিটে।

পাশ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উত্তেলিত কয়লার ব্যবহার নিশ্চিত এবং কৃষিপ্রধান উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় সেচ সুবিধার সুবিধার্থে ২০০৬ সালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। শুরুতে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দু’টি ইউনিটে শুরু হয়েছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন। বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট যুক্ত করা হয়েছিল। তবে ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে কখনো পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি কেন্দ্রটিতে।

সূত্র : ইউএনবি