ঝড়-বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম দক্ষিণ উপকূলে লবণ উৎপাদন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২৭ এপ্রিল থেকে বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। মৌসুমের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে এ পরিস্থিতি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে (২০২৫–২৬) দেশে লবণের চাহিদা ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ লাখ ৩৫ হাজার টন। তবে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৭ লাখ ৬৮ হাজার ৫৯৪ টন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিকের লবণ প্রকল্পের ডিজিএম জাফর ইকবাল ভূঁইয়া।
প্রতিবছর ১৫ নভেম্বর থেকে পরবর্তী বছরের ১৫ মে পর্যন্ত লবণ উৎপাদন মৌসুম ধরা হয়। সে হিসেবে চলতি মৌসুমে উৎপাদনের সময় বাকি আছে মাত্র প্রায় দুই সপ্তাহ। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাঠ পর্যায়ে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় বাড়ছে।
বর্তমান উৎপাদন পরিস্থিতি অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১০ লাখ টন লবণ ঘাটতি রয়েছে। গত মৌসুমে একই সময় পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছিল ১৮ লাখ ৬১ হাজার ৫০৩ টন, যা এ বছরের তুলনায় বেশি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আবহাওয়া দ্রুত অনুকূলে ফিরলেও পুনরায় লবণ উৎপাদনের জন্য মাঠ প্রস্তুত করতে অন্তত ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগবে। ফলে অবশিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘাটতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে বাজার পরিস্থিতিও চাষিদের জন্য হতাশাজনক। মাঠ পর্যায়ে অপরিশোধিত (ক্রুড) লবণ প্রতিমন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২৫৫ টাকায়, যার মধ্যে ধোলাই খরচ ৪০–৫০ টাকা বাদ দিলে চাষিরা হাতে পাচ্ছেন প্রায় ২০০ টাকা। অথচ প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে খরচ পড়ছে সাড়ে ৩০০ টাকারও বেশি।
ফলে চলতি মৌসুম জুড়েই ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন লবণচাষিরা। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে হাজার হাজার চাষি আর্থিক সঙ্কটে পড়ে পথে বসতে পারেন।



