পূর্বধলা (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা
নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এমপি মাসুম মোস্তফার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২টার দিকে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী মো: আল আমিন পূর্বধলা থানায় এ মামলা করেন।
রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে যুবদলের নয়জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন এনায়েত উল্লাহ প্রান্ত (২৫), মো: মিজান মিয়া (২৭), মো: মিজানুর রহমান (৪৮), মো: খাইরুল ইসলাম (৩৪), ইমরান মিয়াদাদ এনায়েত (৩৪), মাহফুজুল ইসলাম শরীফ (৩২), আবু তাহের (২৬), সুমন মিয়া (২৬) এবং হুমায়ুন (৩০)। গ্রেফতারদের নেত্রকোনা মডেল থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানায় পুলিশ।
এর আগে, মামলায় ৬৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার ও যুগ্ম-আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহম্মেদ বাবুসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের আসামি করা হয়। আসামিদের তালিকায় উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের নাম থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নেত্রকোনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হবে ও এ ঘটনায় পুলিশ তৎপর রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘হামলার ঘটনার রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশের অভিযান চলমান থাকবে।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার মাগরিবের নামাজের সময় আতকাপাড়া মেসার্স গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বিএনপির সমর্থিত কিছু নেতাকর্মী। এ সময় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত গাড়িটি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার সময় সংসদ সদস্য পাম্প সংলগ্ন নামাজের ঘরে মাগরিবের নামাজ পড়ছিলেন। এমতাবস্থায় তাকে আক্রমণের চেষ্টা করলে মুসল্লিরা নামাজ ঘরের মূল ফটক বন্ধ করে তাকে রক্ষার চেষ্টা করে। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
মামলার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পূর্বধলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।



