খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান চলাকালে স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীমসহ প্রশাসনের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার পূর্ব বলিপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইউএনও কাজী শামীম, সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব, আনসার সদস্য নুর মোহাম্মদ ও সালাউদ্দিন, উপজেলা অফিসের গাড়িচালক কামাল হোসেন, অফিস সহকারী জয়নাল আবেদীন এবং স্থানীয় বাসিন্দা মো: আজাদ, সুমন, নূর হোসেন ও আবুল হাশেম।
স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব বলিপাড়ার কয়েকটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বালু ও মাটি উত্তোলন চলছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ইউএনওর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়।
প্রশাসনের দাবি, প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অন্তত ১০টি স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এতে ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়ে কৃষি জমি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার সাদাত বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ইউএনও কাজী শামীম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের উপস্থিতির খবর পেয়ে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা চালায়। এতে আমিসহ অনেক সদস্য আহত হই। পরে কোনো রকমে ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।’
তিনি বলেন, অভিযানের সময় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাম্প ও পাইপ অপসারণ বা অকার্যকর করার উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাবার বুলেট ছোড়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অভিযানের সময় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির পাশাপাশি সাধারণ কৃষকদের সেচ পাম্পও ভেঙে ফেলা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ জানান।
তাদের অভিযোগ, বিনা প্ররোচনায় প্রশাসন গুলি ছোড়ে, এতে কয়েকজন গ্রামবাসী আহত হয়। প্রমাণ হিসেবে গুলির খোসাও তারা সংরক্ষণ করে রেখেছেন।
অন্য এক বাসিন্দা বলেন, আমরা অবৈধ বালু উত্তোলনের পক্ষে নই। কিন্তু কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত সেচ পাম্প ভাঙচুর করায় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও কাজী শামীম স্যালো মেশিন নষ্ট করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কৃষি জমি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।



