তিন দিনের রিমান্ড শেষে বহুল আলোচিত কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেফতার হওয়া সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার কুমিল্লা আদালতে হাজির করা হয়। পরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আমান তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তিনি আরো বলেন, ডিএনএ ক্রস ম্যাচিং প্রক্রিয়া চলছে। ডিএনএ চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।
এর আগে বুধবার কুমিল্লার একটি আদালত ডিএনএ নমুনা ক্রস ম্যাচিংয়ের জন্য সন্দেহভাজন ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতের পরিদর্শক মামুনুর রশিদ জানান, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেলে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
এর আগে ২০১৭ সালের মে মাসে তৎকালীন তদন্ত সংস্থা সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। সে সময় ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি হলেও সন্দেহভাজনদের সাথে নমুনা মেলানো হয়নি। এবারই প্রথম কারো নমুনা মেলানোর জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে হাফিজুরকে আটক করেন পিবিআইয়ের সদস্যরা। এরপর তাকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার বিকেলে কুমিল্লার আদালতে আনা হয়। এ সময় কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। পরে শুনানি শেষে বিচারক মো: মুমিনুল হক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল বিচারক মুমিনুল হকের আদালতে হাজির হন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো: তরিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি তিন সন্দেহভাজন- সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। ওই তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দেয়া হয়। সেই তিনজনের একজন হলেন ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের অদূরে একটি জঙ্গলে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
শুরুতে পুলিশ তদন্ত করলেও পরে মামলাটি ডিবি ও সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। কোনো সংস্থা দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে না পারায় ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দফতরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দফতরের পরিদর্শক মো: মজিবুর রহমান। সবশেষ ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।



