মঠবাড়িয়ায় ডাক্তার পরিচয়ে রোগীদের সাথে প্রতারণা, ২ জনকে জরিমানা

পৌর শহরের মডেল মসজিদের পাশে ইসমাইল মার্কেটে চেম্বার খুলে নিজেকে নিঃসন্তান দম্পতির চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে আসছিলেন সুমাইয়া আক্তার।

‎মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

Location :

Pirojpur
ডাক্তার পরিচয়ে রোগীদের সাথে প্রতারণা, দুই চেম্বারে অভিযান
ডাক্তার পরিচয়ে রোগীদের সাথে প্রতারণা, দুই চেম্বারে অভিযান |নয়া দিগন্ত

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রি ছাড়াই নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার এবং চেম্বার খুলে রোগীদের সাথে প্রতারণার দায়ে দু’জনকে জরিমানা করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পৌর শহরের মডেল মসজিদ সংলগ্ন এলাকা ও মিরুখালী রোডে পৃথক অভিযান চালিয়ে ওই জরিমানা করা হয়। অভিযানে ভ্রাম্যমান​আদালত পরিচালনা করেন মঠবাড়িয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথ।

জানা যায়, পৌর শহরের মডেল মসজিদের পাশে ইসমাইল মার্কেটে চেম্বার খুলে নিজেকে নিঃসন্তান দম্পতির চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে আসছিলেন সুমাইয়া আক্তার। প্রকৃতপক্ষে তার কোনো মেডিক্যাল ডিগ্রি নেই। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ওই চেম্বারে অভিযান চালানো হলে সুমাইয়া আক্তার তার দোষ স্বীকার করেন। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। একইসাথে আজ শনিবারের (২৫ এপ্রিল) মধ্যে ডাক্তার পরিচয় সংবলিত সব বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড অপসারণের লিখিত হলফনামা দেন সুমাইয়া আক্তার।

এরপর রাত ১১টার দিকে পৌর শহরের মিরুখালী রোডের ওরো ম্যাক্স ডেন্টাল কেয়ারে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে মো: শাহাদাত হোসেন নামে এক ব্যক্তি বিডিএস ডিগ্রি ছাড়াই নামের আগে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে দন্ত চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহাদাত মানবিক বিভাগ থেকে দাখিল ও আলিম সম্পন্ন করেছেন। ভুয়া পদবি ব্যবহার করে জনসাধারণের সাথে প্রতারণার দায়ে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

অভিযানে সহায়তা করেন মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: সৌমিত্র সিনহা।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথ বলেন, ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন অনুযায়ী এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। সাধারণ মানুষকে চিকিৎসায় প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’