প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) বিভিন্ন চলমান কাজ পরিদর্শন করেছেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বিএমডিএ’র আওতাধীন পদ্মা নদী হতে সরমোংলা খালে ভূ-উপরিস্থ পানির সেচ কার্যক্রম ও নেট মিটারিং সিস্টেমের মাধ্যমে সেচ কাজ পরিচালনাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ পরিদর্শন করেন তারা।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো: কামরুজ্জামান এনডিসি, (অতিরিক্ত সচিব)। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো: সারওয়ার মোশেদ (উপসচিব)।
এ সময় উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনকালীন যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সাধারণ জনগণকে তা তিনি বাস্তবায়ন করে চলেছেন। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন ও পহেলা মে কৃষি কার্ড বিতরণ করবে এই সরকার। দেশের মানুষের জন্য এই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কাজ পরিদর্শন করে আমি মুগ্ধ। উত্তরাঞ্চলকে শস্য ভান্ডারে পরিণত করেছে বিএমডিএ। কৃষির মাধ্যমে একটি এলাকার চিত্র যে বদলে দেয়া যায় তা এই প্রতিষ্ঠানটি করে দেখিয়েছে। তারা খাল থেকে পানি সংগ্রহ করে চাষাবাদ করছেন, সোলারের মাধ্যমে সেচ পরিচালনা করছে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে প্রেরণ করছে। এ ছাড়া কৃষকের কথা চিন্তা করে বৃক্ষ রোপণসহ বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাই এই এলাকার কৃষকের জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, যা কৃষকের জীবন মান আরো উন্নয়ন হবে।
উপদেষ্টা রেহান আসাদ বলেন, কৃষি কার্যক্রম আরো গতিশীল ও আধুনিক করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা সরাসরি সরকারি ভর্তুকি, ঋণ এবং কৃষি উপকরণের সুবিধা পাবেন।
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা এবং কৃষকদের জন্য নায্যমূল্য নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এই উদ্যোগটি কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে একটি বড় পদক্ষেপ।
বরেন্দ্র অঞ্চলে আগে একটি ফসল উৎপাদন হতো। ফসল উৎপাদনের জন্য পানির জন্য অপেক্ষা করতে হতো দীর্ঘ দিন। কিন্তু আমার বাবা মরহুম ড. আসাদুজ্জামান এই কৃষকের কথা চিন্তা করে ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যার ফলে এখন এক ফসল থেকে তিন ফসলে পরিণত হয়েছে। মানুষের জীবন মান উন্নয়ন এবং ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। তাই আগামীতে কৃষকদের জন্য আরো কি কি সুবিধা দেয়া যায় সেই পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করব। তাহলে কৃষি খাতকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএমডিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো: আবুল কাসেম, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুস সাদাত রত্ন, সচিব মেহেদী হাসান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাজিরুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শিবির আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিন্নুরাইন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান, গোদাগাড়ী সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ সরকার সহ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
এদিকে, সকালে সরমংলা ইকো পার্কে উপদেষ্টা রেহান আসাদ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর গাছের চারা রোপন করেন।



