তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযানকালে মোবাইল কোর্ট টিমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় স্পিডবোট চালক আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় দু’টি বাল্কহেড ও একটি ড্রেজারবাহী নৌকাসহ মিলন মিয়া (৪৫) নামে এক ড্রেজার মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার যাদুকাটা নদীর সত্রিশ গ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক ড্রেজার মালিককে ৯০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মিলন জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের সত্রিশ গ্রামের মরহুম আব্দুল লতিফ তরফদারের ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাস্কফোর্স অভিযানে দায়িত্বে থাকা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রবিউর রায়হানের নেতৃত্বে শুক্রবার রাত ১২ থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে যাদুকাটা নদীতে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালিত হয়। এরমধ্যে রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে বিশ্বম্ভপুরের ছত্রিশ গ্রামে অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের খবর পয়ে আসামিরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় দুটি স্টিলবডি নৌকা ও তিনটি ড্রেজারবাহী কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়।
পরে, জব্দ করা নৌকা ও ড্রেজার নিয়ে যাওয়ার জন্য নৌ পুলিশকে দুইজন মাঝি আনতে বলা হয় এবং এসময় মোবাইল কোর্ট টিম সেখানে অবস্থান নেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই গ্রামের কয়েক শ’ মানুষ নদীর পাড়ে একত্রিত হয়ে মোবাইল কোর্ট টিমের ওপর পাথর নিক্ষেপ শুরু করে, এতে এক স্পিডবোট চালক আহত হয় এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন।
পরবর্তী সময়ে নৌপুলিশ ও বাদাঘাট পুলিশ-ফাঁড়ির সহযোগিতায় পুনরায় অভিযান পরিচালনা করে দুটি বাল্কহেড ও একটি ড্রেজারবাহী নৌকা জব্দসহ মিলনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হামলায় জড়িত কয়েকজনের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে নদীর অন্য একটি পাড়ে ডিউটিতে ছিলাম। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাল্কহেড নৌকাসহ একজনকে আটক করেছি। এ বিষয়ে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান মানিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ২৬ এপ্রিল থেকে যাদুকাটা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্সের অভিযান ও মোবাইল কোর্ট নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো অনিয়মকে ছাড় দেয়া হবে না।



