চট্টগ্রামে ইসলামী পাঠাগারে হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবিতে শ্রমিক কল্যাণের সংবাদ সম্মেলন

খুলশীর সেগুনবাগান ইসলামী পাঠাগারে হামলা, ভাঙচুর ও শ্রমিক নেতাকর্মীদের ওপর নৃশংস আক্রমণের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর। এতে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

Location :

Chattogram
চট্টগ্রামে ইসলামী পাঠাগারে হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবিতে শ্রমিক কল্যাণের সংবাদ সম্মেলন
চট্টগ্রামে ইসলামী পাঠাগারে হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবিতে শ্রমিক কল্যাণের সংবাদ সম্মেলন |নয়া দিগন্ত

খুলশীর সেগুনবাগান ইসলামী পাঠাগারে হামলা, ভাঙচুর ও শ্রমিক নেতাকর্মীদের ওপর নৃশংস আক্রমণের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর। এতে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে খুলশী থানাধীন সেগুনবাগান এলাকায় অবস্থিত ইসলামী পাঠাগারে হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট সেক্টরের একটি নিয়মিত সাংগঠনিক বৈঠক চলার সময় বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের নামধারীরা অতর্কিত হামলা চালায়। তারা পাঠাগারে ভাঙচুর চালিয়ে উপস্থিত শ্রমিক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও লুটপাট করে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন একটি জাতীয় শ্রমিক সংগঠন, যার সাথে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরোধ নেই। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করা এই সংগঠনের নিরীহ নেতাকর্মীদের ওপর এমন হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিবেশকে কলঙ্কিত করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, হামলায় মহানগর কোষাধ্যক্ষ মো: নুরুন্নবীসহ অন্তত আটজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা নুরুন্নবীর কাছে থাকা প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং অন্য নেতাকর্মীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ, মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন লুট করে। সর্বশেষ হিসেবে প্রায় ২ লাখ টাকা লুট হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আহতদের নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

এস এম লুৎফর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করতে হবে। তারা যে দলেরই হোক, পরিচয় প্রকাশ করে অবিলম্বে গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি লুট হওয়া অর্থ ও মালামাল উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের ফেরত দিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সুস্থ রাজনৈতিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে সব দল শান্তিপূর্ণভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে—এটাই জনগণের প্রত্যাশা।’

এ সময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা রোধে সরকারের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রশাসনকে স্বপ্রণোদিত হয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর সহ-সভাপতি মকবুল আহম্মেদ ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক স ম শামীম, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম এবং শিক্ষা প্রশিক্ষণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার ও পাঠাগার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।