সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের হাওরাঞ্চলের কৃষকগণ তাদের কষ্টে ফলানো বোরো ধানের চারারোপন করা থেকে শুরু করে পাকা ধান কেটে ধান শুকানো খলায় নিয়ে আসতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার।
হাওরের গভীর থেকে ধান কেটে আনার সময় সড়ক ভাঙাচুরা থাকায় অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাত-পা ভেঙে গুরুত্ব আহত হতে হয় কৃষক ও শ্রমিকদের। হাওরের মাটির সড়কে যানবাহন আটক থাকে দিন ভর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাওরের সড়কগুলো মাটির থাকায় বৃষ্টি হলে ট্রলি, অটোরিকশা, পিকআপ, ঠেলাগাড়িসহ কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ধান পরিবহন করার সময় মাটির সড়কের গর্তে আটকে গিয়ে দিন পার হয়ে যায়। অনেকে আবার আটকে যাওয়া ট্রলি থেকে ধান সরিয়ে ট্রলি উঠাচ্ছে। সড়ক মেরামত করে পাকা করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউএনও, এমপি ও মন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়ে আসলেও এর কোনো সুফল পাচ্ছেন না কৃষক।
যুগ যুগ ধরে এই দুর্ভোগের শিকার হলেও দায়িত্বশীল কতৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে গিয়ে লাভের অংশে ভাগ বসাচ্ছে আর পরিবহনে কষ্ট হচ্ছে। এতে করে লাভের পরিমান কমে যাওয়ায় হাওরাঞ্চলে কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শনির হাওরের কৃষক জামাল মিয়া জানান, হাওরের গভীর থেকে খলায় (ধান শুকানোর স্থান) পাকা ধান কেটে আনার জন্য আমাদের পাকা সড়ক প্রয়োজন। না থাকায় আমাদের দুর্ভোগের শেষ নাই। মাটির সড়ক পাকা না হলে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করেছে না। প্রতি বস্তা ৩০-৪০ টাকা দিয়ে ট্রলি দিয়ে বাড়ির পাশে খলায় আনতে হচ্ছে সড়ক ভাঙা চুরা ও কাঁদা থাকায়।
মাটিয়ান হাওরের কৃষক ফারুক মিয়া জানান, জমি থেকে ধান আনতে গিয়ে খরচের পরিমান বেড়েছে সড়কের কারনে। এমন অবস্থা হয়েছে যে, লাভের আশার ধান উৎপাদন করেছি লাভ শেষ, আসল নিয়েই টানাটানি যে খরচ হচ্ছে ধান কাটা ও পরিবহন করতে গিয়ে। আবহাওয়ার যে অবস্থা শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদের টিআর কাবিটা থেকে হাওরের জাঙ্গালগুলো (সড়ক) মেরামত করেছি। মাটির সড়ক হওয়ায় বৃষ্টি হলে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। সড়ক পাকা হলে ধান সহজে খলায় আনতে পারত কৃষকরা।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবার হাওরে ধানের ফলন ভাল হয়েছে। কিন্তু হাওরের সড়কগুলো স্থায়ী ও টেকসই করে তৈরি এবং পাকা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সাথে খরচও বেড়ে গেছে। হাওরের গভীর থেকে ধান কেটে কৃষকরা সহজে খলায় আনতে পারত খরচও কম হত যদি সড়কগুলো পাকা করা হত।


