নবাবগঞ্জে সেচ ব্যবস্থায় অনিয়ম, ধান ছেড়ে ভুট্টায় ঝুঁকছেন কৃষকরা

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আবেদনকারীদের ২০০ টাকা ব্যাংক ড্রাফট করতে হয়। তবে আবেদন করলেও নতুন প্রার্থীদের সুযোগ দেয়া হয় না। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে একই অপারেটর বহাল থাকায় কৃষকেরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন পাম্প অপারেটরদের কাছে।

Location :

Dinajpur
সেচ পাম্প
সেচ পাম্প |নয়া দিগন্ত

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন টপ মহসিপুর এলাকায় বরেন্দ্র গভীর নলকূপ সেচ ব্যবস্থায় অনিয়ম, অতিরিক্ত খরচ ও পানি সঙ্কটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। নির্ধারিত নিয়মের বাইরে বেশি টাকা আদায় ও সময়মতো পানি না পাওয়ায় অনেক কৃষক ধান চাষ ছেড়ে ভুট্টা আবাদে ঝুঁকছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ডিজেল চালিত সেলো মেশিন ব্যবহার করে চাষাবাদ করছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছর পাম্প অপারেটর নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নেয়া হলেও তা মূলত লোক দেখানো। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আগের অপারেটরদেরই বহাল রাখা হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আবেদনকারীদের ২০০ টাকা ব্যাংক ড্রাফট করতে হয়। তবে আবেদন করলেও নতুন প্রার্থীদের সুযোগ দেয়া হয় না। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে একই অপারেটর বহাল থাকায় কৃষকেরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন পাম্প অপারেটরদের কাছে।

অফিস সূত্রে জানা যায়, নবাবগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে মোট ১১৬টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সোলারচালিত এবং একটি বিদ্যুৎচালিত সোলার নলকূপ। সেচের পানির জন্য নির্ধারিত মূল্য প্রতি ঘণ্টা ১৩০ টাকা।

সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় কৃষক মফিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার প্রায় আট থেকে ১০ বিঘা জমি রয়েছে। বরেন্দ্রর সাথে আমার জমি থাকলেও কষ্ট লাগে পানি নিতে পারি না। বিঘাপ্রতি দুই হাজার ৭০০ টাকা দেয়ার পরেও সময়মতো পানি পাওয়া যায় না। আমরা কৃষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছি। বাধ্য হয়ে ডিজেল চালিত সেলো মেশিন দিয়ে চাষাবাদ করছি। পানির সমস্যার কারণে ধানের পরিবর্তে অধিকাংশ জমিতে ভুট্টা চাষ করছেন কৃষকরা। একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান পাইনি।’

স্থানীয় কৃষক শাহীন বলেন, ‘আমার কাছ থেকে বিঘাপ্রতি দুই হাজার ৭০০ টাকা চাওয়া হয়। কম টাকা দিলে জমিতে পানি দেয়া হয় না। সেচ খরচ বেশি হওয়ায় বরেন্দ্রে ধান লাগাতে পারিনি, জমি ফেলে রাখছি। পাশের আরেকটি গভীর নলকূপে বিঘাপ্রতি এক হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে ধান আবাদ করেছি। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’

কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার প্রায় এক বিঘা জমি রয়েছে। অতিরিক্ত সেচ খরচের কারণে বাধ্য হয়ে ডিজেল চালিত সেলো মেশিন দিয়ে আবাদ করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে পাম্প অপারেটর রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে কিছু মানুষ অভিযোগ করছেন। ২০০৬ সালে নিজের জমি দিয়ে গভীর নলকূপ স্থাপনে সহযোগিতা করেছি এবং ২০০৭ সাল থেকে পাম্প অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।’

সেচ লাইন ও যন্ত্রাংশ মেরামতের টাকা আত্মসাৎ এবং অপারেটর নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘টাকা আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। যা আসে তা যথাযথভাবে দেয়া হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। বিঘাপ্রতি দুই হাজার ৭০০ টাকা নেয়ার বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে নবাবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৭ হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।