গফরগাঁও রেলস্টেশন আধুনিকায়নের জোরালো দাবি

গফরগাঁও রেলস্টেশন আধুনিকায়নের জোরালো দাবি উঠেছে। ঐতিহ্য ও ইতিহাসে সমৃদ্ধ জনপদ গফরগাঁও। ১৮২৩ সালে ময়মনসিংহ জেলার ১২টি থানার মধ্যে অন্যতম ছিল এ অঞ্চল। পরবর্তীতে ১৮৭৯-৮০ সালের মধ্যে চালু থাকা ৫৪টি ডাকঘরের মধ্যেও গফরগাঁওয়ের অবস্থান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Mymensingh
গফরগাঁও রেলস্টেশন আধুনিকায়নের জোরালো দাবি
গফরগাঁও রেলস্টেশন আধুনিকায়নের জোরালো দাবি |নয়া দিগন্ত

গফরগাঁও রেলস্টেশন আধুনিকায়নের জোরালো দাবি উঠেছে। ঐতিহ্য ও ইতিহাসে সমৃদ্ধ জনপদ গফরগাঁও। ১৮২৩ সালে ময়মনসিংহ জেলার ১২টি থানার মধ্যে অন্যতম ছিল এ অঞ্চল। পরবর্তীতে ১৮৭৯-৮০ সালের মধ্যে চালু থাকা ৫৪টি ডাকঘরের মধ্যেও গফরগাঁওয়ের অবস্থান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে ১৮৮৫-৮৬ সালে রেলপথ স্থাপন।

ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ নির্মাণের সময় প্রথম দিকের চারটি স্টেশনের একটি ছিল গফরগাঁও। ১৮৮৫ সালের ২৯ আগস্ট ময়মনসিংহ থেকে গফরগাঁও পর্যন্ত রেলপথে যাত্রী পরিবহন শুরু হয়। একই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গফরগাঁও থেকে জয়দেবপুর অংশও চালু করা হয়। তৎকালীন ‘ঢাকা প্রকাশ’ পত্রিকার তথ্যমতে, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে ট্রেন ছেড়ে বেলা ৮টা ১৫ মিনিটে গফরগাঁও পৌঁছাতো এবং বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৭টায় আবার ময়মনসিংহে ফিরতো। সে সময় গফরগাঁও থেকে বিপুল পরিমাণ পাট ও পাটজাত পণ্য রেলপথে পরিবহন হতো।

একশ’ ত্রিশ বছরেরও বেশি পুরোনো গফরগাঁও রেলস্টেশন ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বারের স্মৃতিবিজড়িত। পাশাপাশি হযরত শাহ ফরিদ, কালু শাহ, মানিক শাহ ও গরীবউল্লাহ শাহসহ বহু পীর-দরবেশের আগমনে এ অঞ্চল পেয়েছে বিশেষ ঐতিহ্যের মর্যাদা।

বর্তমানে ‘বি’ শ্রেণির এ স্টেশনটি যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের দিক থেকে আশপাশের স্টেশনগুলোর মধ্যে অন্যতম শীর্ষে অবস্থান করছে। গফরগাঁও ছাড়াও কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া এবং ময়মনসিংহের নান্দাইল, ত্রিশাল ও ভালুকা উপজেলার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই স্টেশন ব্যবহার করে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করছেন।

তবে যাত্রীসেবার মান নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। সম্প্রতি ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম উচু করা হলেও এর দৈর্ঘ্য অপর্যাপ্ত হওয়ায় আন্তঃনগর ট্রেনের পুরো বগি প্ল্যাটফর্মে আসে না। এতে যাত্রীদের ওঠানামায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম, ওভারব্রিজ, টিকিট কাউন্টার বৃদ্ধি, নারীদের জন্য আলাদা বিশ্রামাগার, মাতৃদুগ্ধ কর্নার, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও সুপেয় পানির সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

স্টেশন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধনেরও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী জানান, গফরগাঁও ও মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনের সার্বিক উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরি। তারা এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।