জাজিরা প্রান্তে ‘পদ্মা সেতু জাদুঘর’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

‘কারিগরি উৎকর্ষের এক অনন্য নিদর্শন পদ্মা সেতু। এটি গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্মুক্ত পাঠশালা হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া আমরা উন্নয়নের সাথে পরিবেশের মেলবন্ধন ঘটাতে চাই।’

গোলাম মঞ্জুরে মাওলা অপু, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

Location :

Jajira
‘পদ্মা সেতু জাদুঘর’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, (ডানে) পদ্মা সেতুর সাইট অফিসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
‘পদ্মা সেতু জাদুঘর’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, (ডানে) পদ্মা সেতুর সাইট অফিসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন |নয়া দিগন্ত

পদ্মা সেতুর নির্মাণ ইতিহাস ও কারিগরি শৌর্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে চিরস্মরণীয় করে রাখতে জাজিরা প্রান্তে ‘পদ্মা সেতু জাদুঘর’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। একইসাথে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আগামী পাঁচ বছরে মোট ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনার আওতায় পদ্মা সেতুর সাইট অফিসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন এবং জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: রাজিব আহসান, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এই জাদুঘরটি নির্মাণের মাধ্যমে আমরা সেই সংগ্রাম, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙ্গা জবাব এবং প্রকৌশলবিদ্যার এই বিস্ময়কর যাত্রাকে সংরক্ষণ করছি। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখান থেকে দেশপ্রেম ও স্বনির্ভরতার প্রেরণা পাবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আজ যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হলো, তা এই সেতুর চারপাশকে একটি পরিবেশবান্ধব সবুজ বলয়ে পরিণত করবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কারিগরি উৎকর্ষের এক অনন্য নিদর্শন পদ্মা সেতু। এটি গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্মুক্ত পাঠশালা হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া আমরা উন্নয়নের সাথে পরিবেশের মেলবন্ধন ঘটাতে চাই। সেতু এলাকায় ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ আমাদের সেই টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।’

সভাপতির বক্তব্যে সেতু সচিব জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শ্লোগান ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের সাইট অফিসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পাবে, সেইসাথে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে। অত্যন্ত গর্বের সাথে এই জাদুঘর স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এখানে সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত বিশালাকার যন্ত্রাংশ, ডিজিটাল আর্কাইভ ও দুর্লভ সব আলোকচিত্র স্থান পাবে।’

এছাড়াও অনুষ্ঠানে শরীয়তপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দীন, শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) তাহসিনা বেগম, সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনসহ সেতুর সাইট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

এ কর্মসূচির আওতায় পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তে আগামী পাঁচ বছরে ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছসহ সর্বমোট এক লাখ বৃক্ষ রোপণ করা হবে। এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে পদ্মা সেতু এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা ও সবুজায়নের পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হবে। পদ্মা সেতু এলাকাকে একটি আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো অঞ্চলে রূপান্তরের পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই সবুজায়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে।

উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুর শরীয়তপুর জেলার জাজিরা প্রান্তে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে জাদুঘরটি। পদ্মা সেতু নির্মাণকালে প্রকল্পের মূল প্রকল্পে একটি আধুনিক জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল কিন্তু বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে জাদুঘর নির্মাণ করা হয়নি। এই যাদুঘর নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর অথাৎ ২০২৮ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত।

জাদুঘরে সেতুর পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তের দলিল, দুর্লভ আলোকচিত্র, ডিজিটাল মডেল ও সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির অংশবিশেষ সুসংগতভাবে সংরক্ষণ করা হবে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ-সংশ্লিষ্ট তথ্য, গবেষণা উপকরণ বিভিন্ন প্রাকৃতিক নমুনা ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সেতু বিভাগ জানিয়েছে, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ সেতু। সেতুটির মোট দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার ও প্রস্থ ১৮.১০ মিটার।