রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার আইনে সর্বমোট ১৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাকের আহ্বানে পরিচালিত এ অভিযানে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সংরক্ষণ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, খাবার সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ না করা ও খাদ্যের মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার মতো বিভিন্ন অভিযোগ উঠে আসে।
অভিযানের সময় কালিযুক্ত কাগজের প্যাকেট, বাসি খাবার ও অনুমোদনহীন ফুড কালার জব্দ করা হয়।
অভিযানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত ফটিক জল নামক দোকানকে তিন হাজার টাকা, চারু আড্ডা, বাইটস অ্যান্ড ব্রিউ লাইফ বেকারি ও রুয়েট ক্যাফেটেরিয়াকে দুই হাজার টাকা করে এবং বাংলা টিফিন ক্যান্টিনকে সাত হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ফজলে এলাহী, রাজশাহীর জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা চিন্ময় প্রামাণিক, বিএসটিআইয়ের ইনস্পেক্টিং অফিসার ইঞ্জিনিয়ার জোনায়েদ আহমেদ ও রুয়েট প্রশাসনের পক্ষে ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার অংশ নেন।
অভিযান সম্পর্কে ফজলে এলাহী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে রুয়েট কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জুস বার থেকে শুরু করে ছাত্রদের খাবারের সবগুলো স্থান পরিদর্শনের চেষ্টা করেছি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আমরা নিয়মের ব্যত্যয় পেয়েছি। তাদের সতর্কতামূলকভাবে আর্থিক দণ্ড প্রদান করা হয়েছে।’
ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, ‘ভিসি মহোদয়ের নির্দেশে আজকের এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ছাত্রদের জন্য রুচিশীল ও মানসম্মত খাবার রুয়েট প্রশাসনের অগ্রাধিকার। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
পাশাপাশি যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগ দ্রুত রুয়েট প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
অভিযানকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও খাবারের মান ও মনিটরিংয়ের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।



