মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বেড়িবাঁধ রক্ষায় চলমান উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) আসনের এমপি ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন। উপজেলার ফরাজিকান্দি ইউনিয়নের জনতা বাজার সংলগ্ন এলাকায় মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ওই বেড়িবাঁধের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি কাজের নিম্নমান, বিশেষ করে ইট, বালু, পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর মানে অসঙ্গতি দেখতে পান। পরে তিনি মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম সাহেদকে মোবাইলফোনে বিষয়টি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কাজ অবিলম্বে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে আমিরাবাদ বাজার সংলগ্ন ৭৫ মিটার এলাকায় শহীদ ব্রাদার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে।
পরিদর্শন শেষে এমপি জালাল উদ্দিন বলেন, ‘জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না। জনগণের টাকায় পরিচালিত প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শহীদ ব্রাদার্সের প্রতিনিধি জাফরিল চৌধুরী বলেন, ‘এমপি মহোদয় আমার কাজের স্থান পরিদর্শন করেছেন বলে জেনেছি। আমরা এমপি মহোদয়ের নির্দেশনার বাইরে নই। কাজের কোথাও কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি থেকে থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা হবে। গুণগত মান বজায় রেখেই কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি।’
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম সাহেদ বলেন, ‘আমি নিজে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভিজিটে গিয়ে নিম্নমানের ইটের খোয়া দেখতে পাই। তাৎক্ষণিকভাবে আমি চিঠি ইস্যু করেছি। শনিবার এমপি মহোদয় পরিদর্শনে গিয়ে কাজের নিম্নমান দেখে আমাকে ফোন করেন। আপাতত ওই স্থানের কাজ বন্ধ রয়েছে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল গণি তপদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল হাসান বেনু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রাশেদ জামান টিপুসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের উন্নয়ন কাজে মানহীন সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ খুব কমই দেখা গেছে। এমপির আকস্মিক পরিদর্শন ও কাজ বন্ধের নির্দেশে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।



