বরগুনা-২ আসন

বিএনপির হামলার প্রতিবাদে জামায়াত প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন

ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। পরে ৯৯৯ নম্বরে কল দেয়া হলেও থানা কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা

Location :

Barguna
পাথরঘাটায় নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপির হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন বরগুনা-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী  ডা. সুলতান আহমেদ
পাথরঘাটায় নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপির হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন বরগুনা-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ |নয়া দিগন্ত

বরগুনায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সমাবেশে যাওয়ার পথে বাধা ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা জামায়াতে ইসলামী। এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরুর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনারও প্রতিবাদ জানানো হয়।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বরগুনা জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বরগুনা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই আসনের বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনির ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা পাথরঘাটায় ১১ দলীয় জোট আয়োজিত শেষ নির্বাচনী জনসভায় যেতে জামায়াত ও জোটের নেতাকর্মী-সমর্থকদের বাধা দেয়। পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বিভিন্ন স্থানে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এর মাধ্যমে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিনষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, কয়েক দিন ধরে চলমান এসব অপ্রীতিকর ঘটনায় আসন্ন নির্বাচন নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডা. সুলতান আহমেদ বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বরগুনা-২ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে পাথরঘাটা উপজেলা শহরের কেএম লতিফ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি নির্বাচনী সভার আয়োজন করা হয়। আমার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে দেখে বিরোধী পক্ষ ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি তার দলীয় ও নির্বাচনী কর্মীদের দিয়ে পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে—বিশেষ করে পাথরঘাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রিজের গোড়া, বাইনচটকি ফেরিঘাট, কাটাখালী মোড়, কাকচিড়া বাজারসংলগ্ন ব্রিজের গোড়া, বিশ্ব রোডের সিএন্ডবি মোড়, নাচনাপাড়া বটতলা ও বাঁশতলা ব্রিজ, কাঠালতলী ইউনিয়নের কেরামতপুর বাসস্ট্যান্ড, তুরাগ পেট্রোল পাম্প, কাঠালতলী ইউনিয়ন পরিষদ বাজার, কাঠালতলী কলেজসংলগ্ন রাজা এলাকা, তালুকের চরদুয়ারী, আস্তাইন বাড়ি মোড়, সদর ইউনিয়নের টেংড়া বাজার, চরদুয়ানী ইউনিয়নের খলিফার হাট, মুন্সির হাট, মাছেরখাল বাজার, চরদুয়ানী বাজার, চরদুয়ানী খেয়াঘাট ও রায়হানপুরের লেমুয়া বাজারসহ বহু স্থানে জনসভায় আসতে থাকা সাধারণ মানুষকে দলবদ্ধভাবে বাধা দেয়া হয় এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, এসব হামলায় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু গুরুতর আহত হন। এছাড়া আমার নির্বাচনী কর্মী ফেরদাউস, সাব্বির, রাজু, মাহমুদসহ অসংখ্য মানুষ ও পথচারী আহত হন। আহতদের অনেককে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহে আসা সাংবাদিকদেরও বিভিন্নভাবে বাধা দেয়া হয়।

ডা. সুলতান আহমেদ আরো অভিযোগ করেন, ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। পরে ৯৯৯ নম্বরে কল দেয়া হলেও থানা কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বিএনপির নেতাকর্মীদের দ্বারা নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘনের ফলে ভোটারদের মধ্যেও ভীতি সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মংচেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আপনাকে কেন বলব? ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”