উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে গিয়ে নিভে গেল জীবনের আলো। যুক্তরাষ্ট্রে খুন হলো মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। শনিবার খণ্ডিত লাশ আসে গ্রামের বাড়িতে। পরে জানাজা শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয় তাকে।
এমন হত্যাকাণ্ড কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না কেউ। খুনির কঠোর বিচার দাবি তাদের। পাশাপাশি সরকারকে নিহতের পরিবারের পাশে থাকতে অনুরোধ করেছেন স্বজনরা।
আগামী জুলাই মাসে দেশে ফেরার কথা ছিল বৃষ্টির। কিন্তু তার আগেই ফিরলো, তবে লাশ হয়ে। এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছায় বৃষ্টির লাশ। দুপুর সোয়া ১টার দিকে লাশটি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বৃষ্টিকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী। ছুটে আসেন বৃষ্টির ছোটবেলার খেলার সাথীরাও। সেখানে তৈরি হয় এক শোকাবহ পরিবেশ।
স্বজনরা জানায়, সাত মাস আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য বৃষ্টি পাড়ি জমান আমেরিকায়। ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পাওয়ার সুবাধে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে সহপাঠী জামিল আহম্মেদ লিমনের সাথে। সেখানে লিমনের সাথে এক মার্কিন নাগরিক রুমমেটের দ্বন্দ্বের জেরে গত ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে ভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়। এর আট দিন পর লিমনের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। পরে ৩০ এপ্রিল উদ্ধার হয় বৃষ্টিরও খণ্ডিত লাশ।
বৃষ্টির ফুফাতো বোন জাবিন মরিয়ম বলেন, ‘সারাক্ষণ হাসিখুশিতে থাকা মেয়েটি এভাবে খুন হবে, তাও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে, এটা মেনে নেয়া কঠিন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
নিহত বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন জানান, ‘এ শোক কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। যেখানে আনন্দঘন পরিবেশের দেশে ফেরার কথা বৃষ্টির, সেখানে লাশ হয়ে ফিরল। মনকে সান্ত্বনা দিতে পারছি না। আমেরিকার মতো দেশে এভাবে খুন হবে সেটা কল্পনাও করতে পারিনি। এমন হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।’
মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামে জহির উদ্দিন আকনের একমাত্র মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। বাদ আসর জানাজার নামাজ শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয় বৃষ্টির লাশ।



