বাংলাদেশে আগামী তিন বছরের মধ্যে জিনোম-এডিটেড, জলবায়ু সহিষ্ণু ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লবণাক্ততা, উচ্চতাপ, খরা, অতিবৃষ্টি ও রোগবালাই সহনশীল ক্লাইমেট-স্মার্ট ধানের জাত উদ্ভাবনে আধুনিক জিনোম এডিটিং প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে গাজীপুরে দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানী, গবেষক ও শিল্প প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে উচ্চপর্যায়ের পরামর্শমূলক কর্মশালা।
শনিবার (৯ মে) দিনব্যাপী গাজীপুরের ব্র্যাক এগ্রিকালচারাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে ‘জিনোম এডিটিংয়ের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল ধানের জাত উন্নয়ন’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির অধীনে বিইউএস-ইউএসডিএ-পিএএল অর্থায়িত একটি বিশেষ গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের সমন্বয়ক, বাংলাদেশ বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির ফেলো এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: তোফাজ্জল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন দেশের খ্যাতিমান জীবপ্রযুক্তিবিদ অধ্যাপক ড. হাসিনা খান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল ইসলাম। পরে আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান অভিঘাত মোকাবিলা করে টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিনোম এডিটিং প্রযুক্তি হতে পারে সময়োপযোগী ও কার্যকর সমাধান। বিশেষ করে লবণাক্ততা, খরা, অতিবৃষ্টি, উচ্চতাপ এবং রোগবালাই সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে এ প্রযুক্তি বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
প্রথম কারিগরি অধিবেশনে প্রকল্পের সাতজন প্রধান গবেষক (পিআই) তাদের চলমান গবেষণার অগ্রগতি উপস্থাপন করেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং সুপ্রিম সিড কোম্পানি লিমিটেডের গবেষকরা অংশ নেন।
দ্বিতীয় কারিগরি অধিবেশনে অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান ও অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল ইসলাম গাইড-আরএনএ ডিজাইন, ধানের জাত উন্নয়নে জিনোম এডিটিং প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জাত উন্মুক্তকরণ সংশ্লিষ্ট জীবনিরাপত্তা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
পরে গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত ধানের কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য অর্জনে বিদ্যমান প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।
কর্মশালায় ব্র্যাক সিডের ড. আকিদুল আজিজ ও জে আরিফ, লাল তীর সিড লিমিটেডের ড. আফরোজা, ট্রপিক বায়োসায়েন্সস (যুক্তরাজ্য)-এর ড. জিয়াউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. তাহমিদা, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ড. শাহানা, সিমিটের ওয়াশিক ফয়সাল, ন্যাশনাল বায়োটেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ড. মুসলিমাসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ৪০ জন বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিল্প প্রতিনিধি, পিএইচডি শিক্ষার্থী ও প্রকল্প সদস্য অংশ নেন।
আয়োজকরা জানায়, প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশে জিনোম এডিটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে উচ্চ ফলনশীল, লবণাক্ততা ও উচ্চতাপ সহনশীল, ঢলে পড়া প্রতিরোধী, সার-সাশ্রয়ী এবং ব্লাস্ট ও ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট রোগ প্রতিরোধী ক্লাইমেট-স্মার্ট ধানের জাত উদ্ভাবনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
কর্মশালার সমাপনী পর্বে আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশে জিনোম-এডিটেড জলবায়ু সহিষ্ণু ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা এবং কৌশলগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়। একই সাথে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্প অংশীদারদের সাথে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্প খাতের এই সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতে কৃষকের জন্য অধিক সহনশীল ও উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনের পথ সুগম করবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



