চাঁদপুরে কিশোর ইয়াছিন হত্যা, দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টার দিকে শহরের যমুনা রোডে গাছ থেকে জাম পাড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দেয় কিশোরদের মধ্যে। এর মধ্যে মেহেদী হাসান (১৪) নামে এক বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে মুসা প্রধানিয়া (১৭) নামে অপর কিশোরের বাঁশের লাঠির আঘাতে ইয়াছিনের মৃত্যু হয়।

ইলিয়াছ পাটওয়ারী, চাঁদপুর

Location :

Chandpur
কিশোর ইয়াছিনের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ
কিশোর ইয়াছিনের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ |নয়া দিগন্ত

চাঁদপুরে জাম পাড়াকে কেন্দ্র করে কিশোর ইয়াছিন (১৪) হত্যার দোষীদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন নিহতের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (৩ জুন) সকালে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন এলাকা থেকে লাশ নিয়ে শহরের কালীবাড়ি পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন নিহতের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে, মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টার দিকে শহরের যমুনা রোডে গাছ থেকে জাম পাড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দেয় কিশোরদের মধ্যে। এর মধ্যে মেহেদী হাসান (১৪) নামে এক বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে মুসা প্রধানিয়া (১৭) নামে অপর কিশোরের বাঁশের লাঠির আঘাতে ইয়াছিনের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত মুসা প্রধানিয়া।

নিহত ইয়াছিন ওই এলাকার মো: ইলিয়াছ মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত কিশোর মুসা একই এলাকার প্রধানিয়া বাড়ির সাদেক প্রধানিয়ার ছেলে।

ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরে রাত ৯টার দিকে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলেও এখনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।

ইয়াছিনের মৃত্যুর পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্স করে বাড়িতে আনা হয়। বিকেলে পুলিশ এসে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। বিক্ষোভের পর ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরাসহ এলাকাবাসী নিহত কিশোর ইয়াছিনের লাশ দাফন সম্পন্ন করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, আমরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করব। প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করছি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন কিশোরের প্রাণহানি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

মানববন্ধন চলাকালে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বিষয়টি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দিলেও তাতে রাজি হননি নিহতের স্বজনরা। তাদের বক্তব্য, তারা কোনো আপস নয়, আইনের মাধ্যমে ন্যায্য বিচার চান।

মেহেদী হাসানের মা ইনুন নেছা বলেন, মূলত আমার ছেলের সাথে মুসার বিবাদ হয়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে ইয়াছিন মারধরের শিকার হয়। তার আরেক ভাই পানিতে ডুবে মারা যায়। খুবই নিরীহ পরিবারের ছেলে সে।

এদিকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে শহরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবে না। এখন এলাকাবাসীর একটাই দাবি— কিশোর ইয়াছিন হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। মূলত জামপাড়াকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা হয়। জড়িত সবাই কিশোর বয়সের। ইয়াছিনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।