ট্রেনে কাটা পড়া লাশের দায়িত্ব নিয়ে পুলিশ-রেলওয়ে ঠেলাঠেলি

দীর্ঘ সময় ধরে লাশটি স্টেশনে পড়ে থাকায় যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

মো: আল আমিন, কিশোরগঞ্জ

Location :

Kishoreganj
কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে পড়ে আছে লাশ
কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে পড়ে আছে লাশ |নয়া দিগন্ত

ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হওয়া পরিচয় না জানা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে এনে রাখাকে কেন্দ্র করে জিআরপি পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে ঠেলাঠেলির ঘটনা ঘটেছে।

দীর্ঘ সময় ধরে লাশটি স্টেশনে পড়ে থাকায় যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার দাপুনহাটি এলাকায় রেললাইনে কাটা অবস্থায় একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। জরুরি সেবার মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে আসে জিআরপি পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় জানা যায়নি।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় মেমো না পেয়ে কর্তরত পুলিশ লাশটি স্টেশন মাস্টারের কক্ষের সামনে রেখে দেয়।

আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লাশটি সেখানেই পড়ে ছিল।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাশটি প্ল্যাটফর্মে পড়ে থাকায় যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর লাশটি স্টেশনে আনা হলেও তা সরানোর বিষয়ে কোনো পক্ষই দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসেনি। ফলে দীর্ঘ সময় লাশটি সেখানেই পড়ে থাকে।

কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘ এক ঘণ্টা ধরে স্টেশনে অবস্থান করছি। আসার পর থেকেই দেখছি লাশটি স্টেশন মাস্টারের কক্ষের সামনে পড়ে আছে। নির্ধারিত স্থানে না রেখে এখানে রাখায় অনেকেই ভয়ে সেখানে যেতে পারছেন না। কেউ কেউ আবার ফিরে যাচ্ছেন।’

বাজিতপুর উপজেলার সরারচর এলাকার সালমা আক্তার বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে স্টেশনে অপেক্ষা করছি। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লাশ পড়ে থাকতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে শিশুরা।’

কিশোরগঞ্জের বত্রিশ এলাকার বাসিন্দা আরিফ ইভান বলেন, ‘স্টেশনে এসে দেখি পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মধ্যে তর্ক চলছে। পরে রেলওয়ে পুলিশ স্টেশন মাস্টারের কক্ষের সামনে লাশ রেখে চলে যায়।’

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রয়োজনীয় মেমো দেয়নি। এ কারণে লাশ হস্তান্তর ও পরবর্তী কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে।’

তিনি আরো অভিযোগ করেন, জরুরি সেবার মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হলেও এক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো সহযোগিতা করেনি।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো: খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের অবগত না করেই লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ কোনো সমন্বয় করেনি, বরং খারাপ আচরণ করে লাশটি আমার কক্ষের সামনে রেখে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, নিয়ম অনুযায়ী ট্রেনে কাটা কোনো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে আগে মেমো প্রদান করার কথা, এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় পুলিশকে জানানো হয়।