চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুন্দিপুর গ্রামে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য মোবাইলেফোনে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুন্দিপুর গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করে। তবে এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত এখনো পলাতক রয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে ছাগল আনতে মাঠে যায় ওই কিশোরী। পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা মিরাজ তাকে জোর করে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় পলাশ আলী (২০) পুরো ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলফোনে ধারণ করে এবং জনি হোসেন (২১) বাইরে পাহারা দেয়।
ধর্ষণের পর তিনজন মিলে মেয়েটিকে হুমকি দিয়ে বলে ‘ধর্ষণের ঘটনার বিষয়ে মুখ খুললে ভিডিও নেটে ছেড়ে দেয়া হবে’। সেই ভয়ে মেয়েটি পরিবারকেও কিছু জানাতে পারেনি।
ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পর মঙ্গলবার (১৯ মে) হঠাৎ করেই ধর্ষণের সেই ভিডিও এলাকার বিভিন্ন জনের মোবাইলেফোনে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে ধর্ষকচক্র নতুন ফাঁদ পাতে।
এজাহারে ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেন, আসামি পলাশ ভিডিও সরিয়ে ফেলতে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। আর আব্দুল আলী (৪৫) সামাজিক মীমাংসার নামে ভিডিও ডিলিট করতে পাঁচ হাজার টাকা চায়।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার খবর পুলিশের নজরে আসা মাত্রই তৎপর হয় সদর থানা পুলিশ। ওইদিন রাতেই কুন্দিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় কাদের ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল আলী (৪৫), মণ্ডলপাড়ার হোসেন আলীর ছেলে জনি হোসেন (২১), আব্দুল কাদেরের ছেলে পলাশ আলীকে (২০)।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা চারজনের নামে সদর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালাই। তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘মূল অভিযুক্ত মিরাজকে ধরতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। তাকেও খুব দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’



