মিয়া গোলাম পরওয়ার

সংবিধানের আলোকে জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন

‘জামায়াত একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। আমরা সহিংসতার পথে না গিয়ে জনগণের স্বার্থে সংসদে ও রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর

Location :

Gazipur
বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত গণভোটই সর্বোচ্চ আইনি ভিত্তি বহন করে। সংবিধানের আলোকে জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন। সেখানে ৭০ শতাংশ মানুষ যখন সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তখন তা অস্বীকারের সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘গণভোটে জনগণের দেয়া রায় উপেক্ষা করে সরকার রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি করছে। পাঁচ কোটি মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটে গৃহীত সংস্কারকে অস্বীকার করা জনগণের মতামতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার শামিল।’

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা জামায়াতের উদ্যোগে টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ৮৪ দফা সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপতির আদেশ, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সরকার সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে নতুন সঙ্কট তৈরি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত প্রতিনিধির বদলে প্রশাসক নিয়োগ দলীয়করণের প্রমাণ। এটি জনগণের ভোটাধিকার ও সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে এবং বিভিন্ন কৌশলে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে। তার ভাষায়, ভোটের ফল প্রকাশ বন্ধ রেখে পরিকল্পিতভাবে কারচুপি করা হয়েছে।’

বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জামায়াত একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। আমরা সহিংসতার পথে না গিয়ে জনগণের স্বার্থে সংসদে ও রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

সংসদে সঙ্কট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো সময় আছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। অন্যথায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সারাদেশে গণসংযোগ, বিক্ষোভ ও আন্দোলন কর্মসূচি জোরদার করা হবে।’

সাংগঠনিক বিষয়ে কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক নির্বাচনে যারা নতুনভাবে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে সমর্থন দিয়েছে, তাদের সংগঠনে সম্পৃক্ত করতে হবে। একইসাথে সংগঠন সম্প্রসারণ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।’

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন টঙ্গী পূর্ব থানা জামায়াতের আমির মো: নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব ও গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন।

টঙ্গী পশ্চিম থানা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মুহাম্মদ খায়রুল হাসান, মুহাম্মদ হোসেন আলী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও সদর মেট্রো থানা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুহাম্মদ ফারুক, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ আফজাল হোসাইন, আজহারুল ইসলাম মোল্লা, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, এ এইচ এম এরফানুল হক, নিয়ামত উল্লাহ শাকের, মাঈনুল ইসলাম ভিপি, মাওলানা গোলামুল কুদ্দুস, নূর মুহাম্মদ মন্ডল, মোস্তাক আহমেদ, মোক্তার হোসেন মুন্সি, গোলাম ইদ্রিস, আবু সুফিয়ান প্রমুখ।