লালমোহনে ইরি-বোরো ধানের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

ভোলার লালমোহনের ইরি-বোরো ধানের চাষে বাম্পার ফলনের আশায় রয়েছেন কৃষকরা। নানা রকম স্বপ্ন নিয়ে বুক বেঁধেছেন তারা। বসন্তের বাতাসে ইরি বোরো ধানের সবুজ ঢেউ কৃষকের মন ভরিয়ে দিচ্ছে। ঢেউয়ের মতো দোল খাচ্ছে ধান গাছের সবুজ পাতা ও কাঁচা শীষ।

মাকসুদুর রহমান পারভেজ, লালমোহন (ভোলা)

Location :

Lalmohan
লালমোহনে ইরি-বোরো ধানের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন
লালমোহনে ইরি-বোরো ধানের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন |নয়া দিগন্ত

ভোলার লালমোহনের ইরি-বোরো ধানের চাষে বাম্পার ফলনের আশায় রয়েছেন কৃষকরা। নানা রকম স্বপ্ন নিয়ে বুক বেঁধেছেন তারা। বসন্তের বাতাসে ইরি বোরো ধানের সবুজ ঢেউ কৃষকের মন ভরিয়ে দিচ্ছে। ঢেউয়ের মতো দোল খাচ্ছে ধান গাছের সবুজ পাতা ও কাঁচা শীষ। এমনি কদিনের মধ্যেই শীষে দুধ-দানা শেষে গঠন হয়েছে ক্ষেত ভরা ধান। আর এমন সবুজ সমুদ্রের ঢেউয়ে দুলে উঠছে প্রকৃতি। ইরি-বোরো ধানের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। ধানের কাঁচা-আধা পাকা শীষ দেখে আনন্দে বুক ভরে উঠেছে কৃষকের মন। দিগন্ত জোড়া সবুজ ফসলের মাঠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরো বিকশিত করে তুলেছে।

অনুকূল আবহাওয়া, কৃষকের নিবিড় পরিচর্যা, যথাসময়ে জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগের কারণে ইরি বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। মাঠে মাঠে দোল খাওয়া নতুন ধানের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। বৈশ্বিক সমস্যার অজুহাতে এ উপজেলায় জ্বালানি তেলের সঙ্কট দেখিয়ে স্কিম ম্যানেজার বা কৃষকরা অতিরিক্ত দামে ডিজেল সংগ্রহ করে তাদের রোপন বা চাষকৃত জমিতে পানি ব্যবহার করে আসছে। তবে বাম্পার ফলন হলেও বারতি দামে ডিজেল ক্রয় করায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর লাভ কম হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

লালমোহন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর এ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে হাইব্রিড জাতের ধান ১০৪০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবং উফসী জাতের ধানের ৯২২০০ হেক্টর জমির লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তথ্য সূত্রে আরো জানা যায়, এ বছর উপজেলায় হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ হয়েছে ১০৩০ হেক্টর ও উফসী জাতের আবাদ হয়েছে ৯২৬০ হেক্টর জমিতে। কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কম জমিতে উন্নত জাতের বোরো ধান চাষ করে বেশি ফলন পেতে ব্যাপক সহায়তা করছে বলে জানান কৃষি বিভাগ। উন্নত জাতের বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ উপজেলার কৃষকদেরকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে আসছে। ধানের সবুজ চারা এবং আধাপাকা শীষ হলুদ বর্ণ ধারণ করতে দেখা গিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই সোনালী ধানের শীষে ঝলমল করবে মাঠের পর মাঠ। মাঠ ভরা ফসলের স্বপ্ন দেখে কৃষকদের চোখে মুখে ফুটবে আনন্দের ছোঁয়া। রাশি রাশি সোনালী ধানে ভরে উঠবে কৃষাণীর শূন্য গোলা। ইরি বোরো মৌসুমকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখে এ অঞ্চলের চাষিরা। সরকারীভাবে দাম না বাড়ালেও এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা অবৈধ মজুমদারের কারনে ডিজেলের দাম বেশি দিয়ে ক্রয় করতে হয়েছে তবে এবছর সেচের জন্য উপজেলার বিভিন্ন খালে লবণাক্ত পানির চেয়ে মিঠা পানি সরবরাহ ছিল অনেক ভালো। সার, বীজ ও বালাইনাশক সংকট ছিল না। ফলে ফসলের মাঠ অনেক সুন্দর হয়েছে। ধানের সবল-সতেজ চারা এবং শীষ বের হয়েছে। তাই এবার ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ধলীগৌরনগরের ইরি চাষী ফিরোজ, মনির, নিরব, আবু মিয়া, ওমর মিয়া, ফয়েজ আহমদ, মো: মোস্তফা মিয়া ও স্কিম ম্যানেজার মো: ইয়াছিন সর্দারের সাথে আলাপ কালে তারা বলেন, প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে চলতি ইরি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছি আমরা চাষীরা।

স্থানীয় আরো একাধিক কৃষক জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শ পেয়েছি তাই এ বছর চাষাবাদকৃত ইরি-বোরো ধান গতবারের চেয়ে আরো ভালো আশা করছি। বৈশাখ মাসের শেষ ভাগে ধান কাটা শুরু হবে। কোনো ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে বিগত বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারবে বলে জানান এ অঞ্চলের কৃষকরা। তখন পূরণ হবে তাদের স্বপ্ন।

লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আবু হাচনাঈন দৈনিক নয়া দিগন্তকে জানান, ইরি বোরো ধান চাষে কৃষি বিভাগ কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকায় বোরো ধানের রোগবালাই কম হওয়ায় ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এবার চলতি মৌসুমে উপজেলার কৃষকরা যদি সরকারের নিয়মানুযায়ী ধৈর্যধারণ করে ধান শুকিয়ে আমাদের পরামর্শনুযায়ী খাদ্য গুদামে বিক্রি করে তাহলে আশা করছি তারা লাভবান হবে।

Topics