লোডশেডিংয়ের কারণে বিপর্যস্ত কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কার্যক্রম। তীব্র বিদ্যুৎ সঙ্কট এবং বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালটিতে এক ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে রাত ৮টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুত নেই, কোনো জেনারেটর বা সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় পুরো হাসপাতাল অন্ধকারাচ্ছন্ন। তীব্র গরমে ওয়ার্ডের ভেতর টেকা দায় হয়ে পড়ায় রোগীরা একটু বাতাস আর ল্যাম্পপোস্টের আলোর আশায় বারান্দায় ভিড় করছেন। এমনকি বাথরুমগুলোতেও নেই আলোর কোনো ছিটেফোঁটা।
চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, দিনে রাতে গড়ে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুত থাকে না এই হাসপাতালে। সুস্থ্য হতে এসে উল্টো ভুতুড়ে পরিবেশ আর গরমে তারা আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
হাসপাতালে কর্মরত একাধিক নার্স জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে রোগীর শরীরে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে নিজেদের অর্থায়নে নার্সরুমে একটি আইপিএসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জরুরি রোগীদের এই রুমে এনে প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার তাওহিদুল ইসলাম তুহিন জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় হার্ট ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের অক্সিজেন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। জরুরি যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত (Sterilize) করা যাচ্ছে না। ব্যক্তিগত উদ্যোগে আইপিএস দিয়ে কয়েকটা লাইট জ্বালিয়ে কোনোমতে সেলাই বা জরুরি কাজগুলো করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নূর-এ-আলম জানান, হাসপাতালটিতে বিকল্প কোনো আইপিএস বা সৌরবিদ্যুৎ নেই। উপজেলা পরিষদ থেকে থেকে একটি জেনারেটর দেয়া হলেও জ্বালানি ক্রয়ের কোনো বরাদ্দ না থাকায় সেটিও বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম যেমন টিকাদান এবং টিকা সংরক্ষণও চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
ভর্তিকৃত রোগীদের চরম ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ অথবা পৌরসভা থেকে দুটি আইপিএস এর ব্যবস্থা করে দিলে আপাতত কিছুটা হলেও স্বস্তি পাওয়া যেত।’
এ নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি পাকুন্দিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার নিতাই দাস বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় এমন লোডশেডিং হচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে লোডশেডিং কমে আসবে।’
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ইতোমধ্যে পৌরসভা থেকে লাশঘর নির্মাণ, মশক নিধন মেশিন সহ বেশ কিছু বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। আইপিএস ক্রয়ের জন্য আলাদা কোনো প্রকল্প নেই, যেহেতু হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে আমরা মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’
জানতে চাইলে পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস বলেন, ‘লোডশেডিং এর বিকল্প হিসেবে হাসপাতালে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে উপজেলা পরিষদ থেকে জেনারেটরটি সচল করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


