কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচা-ভাতিজার দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের নাছিরাকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজগর আলীর ছেলে মো: ইকবাল হোসেন (৪০) ও তার চাচা মো: জালাল উদ্দিনের (৭০) মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। আজ সকালে বিরোধীয় জমিতে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয়পক্ষের সদস্যরা আহত হন। ঝগড়া থামাতে গিয়ে একই গ্রামের শিরিছলাম ওরফে শির চাঁন (৬৫) গুরুতর আহত হন।
আহতদের মধ্যে ইকবাল হোসেন, রুমান, শিরিছলাম, জালাল উদ্দিন, লিজা আক্তার, মামুন ও রুবেলকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রহমত আলী ও রবিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়া আহত সৌরভকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত মো: ইকবাল হোসেন বলেন, তাদের পৈত্রিক ও কটে রাখা সম্পত্তিতে তারা ধান রোপণ করেছিল। আজ সকালে তার চাচা জালাল উদ্দিন লোকজন নিয়ে তাদের রোপিত ধান ক্ষেত কেটে নিয়ে যেতে চাইলে তারা বাধা দেন। বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে তার চাচা জালাল উদ্দিন লোকজনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। পরে সংঘর্ষে রুপ নেয়। এতে তাদের চারজন আহত হয়।
চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকায় এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষের করোর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সামিয়া জেসমিন বলেন, সকালে আহত অবস্থায় নয়জন রোগী হাসপাতালে আসেন। এদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং অন্য দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখনো কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


