লালমনিরহাট শহরের বাবুপাড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) গুরুতর আহত যুবক বর্তমানে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী যুবক হৃদয় ইসলাম (২৬) লালমনিরহাট শহরের বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এরশাদ আলীর ছেলে। অভিযুক্ত স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস (১৯) আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী এলাকার রুহুল কুদ্দুসের মেয়ে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন হৃদয় ইসলাম। এ সময় তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ধারালো ছুরি দিয়ে তার গলায় আঘাত করেন। আকস্মিক হামলায় গুরুতর জখম হন হৃদয়। তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে।
পরে দ্রুত তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।
ঘটনার পরপরই উত্তেজিত স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।
আহত হৃদয়ের বাবা এরশাদ আলী জানান, প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে হৃদয় ও জান্নাতুলের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রথম দিকে তাদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল। তবে গত ১৪-১৫ মাস ধরে দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, নানাভাবে আমার ছেলেকে মানসিকভাবে নির্যাতন করত জান্নাতুল। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের লোকজন একাধিকবার বসেছিল। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বুধবার সকালে আমরা পাশের কক্ষে ছিলাম। হঠাৎ হৃদয়ের চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি সে রক্তাক্ত গলা চেপে ধরে আছে, আর তার পাশে ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছে জান্নাতুল।
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: করিম বাদশা বলেন, আহত যুবকের গলায় গভীর ক্ষত হয়েছে। শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



