পাহাড়ি ঢলে হালুয়াঘাটে নতুন করে ৫ গ্রাম প্লাবিত

প্রথম দফার প্লাবনের পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও নতুন করে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
পাহাড়ি ঢল
পাহাড়ি ঢল |নয়া দিগন্ত

উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে প্লাবিত এলাকার সংখ্যা আরো বেড়েছে। গত বুধবার তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর শুক্রবার নতুন করে আরো পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি কৃষি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম দফার প্লাবনের পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও নতুন করে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বিশেষ করে দর্শা ও গাংগিনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জুগলী ইউনিয়নের রান্ধুনীকুড়া, ঘিলাভুই ও সংরা এবং গাজীরভিটা ইউনিয়নের মহাজনিকান্দা ও বোয়ালমারা গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়।

এলাকাগুলো নিচু হওয়ায় বসতঘর, কাঁচা সড়ক এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ভোগান্তি নেমে এসেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হালুয়াঘাট উপজেলায় মোট ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে গত দু’দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বর্তমানে প্রায় ২৩০ হেক্টর জমির পাকা ধান পানির নিচে রয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত পানি না নামলে পানিতে তলিয়ে থাকা ধান পচে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। এতে করে কৃষকদের আর্থিকভাবে বড় ধরনের ধাক্কা খেতে হতে পারে।

প্লাবিত এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন।

জুগলী ইউনিয়নের রান্ধুনীকুড়া গ্রামের একাধিক কৃষক জানান, সারা বছর কষ্ট করে এবং ধার-দেনা করে তারা জমিতে ধান চাষ করেছেন। এখন কাটার মুখে এসে সে ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

তাদের ভাষায়, আর দুই থেকে তিন দিন পানি থাকলে সব শেষ হয়ে যাবে। আমাদের একমাত্র ভরসা এ বোরো ধান। হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে সব তলিয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।

এদিকে জুগলী এলাকার বিএডিসি সেচ পাম্পের ম্যানেজার নুর ইসলাম জানান, শুধু রান্ধুনীকুড়া এলাকাতেই প্রায় ১০০ একর জমির ধান পানির নিচে রয়েছে। এসব জমির কৃষকরা এখনো একটি ছটাক ধানও কাটতে পারেননি।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো কর্তৃপক্ষ এসে খোঁজ নেয়নি। আমরা একেবারেই অসহায় অবস্থায় আছি।’

তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মাঠপর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।’

নিজেও প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রায় ২৩০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে রয়েছে। তবে নতুন করে বৃষ্টি না হলে দ্রুত পানি নেমে যাবে এবং ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছরই পাহাড়ি ঢলে হালুয়াঘাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।