সিলেটে আটক ৩ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা যে শর্তে ফেরত দিচ্ছে পুলিশ!

সিলেট নগরীতে নিষিদ্ধ রয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা ও ইজিবাইক। পুলিশের নির্দেশনা অমান্য করে চলাচল করায় ইতোমধ্যে আটক হয়েছে ৩ হাজারের অধিক রিকশা। এসব রিকশা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
সিলেটে আটক ৩ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা
সিলেটে আটক ৩ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা |নয়া দিগন্ত

সিলেট নগরীতে নিষিদ্ধ রয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা ও ইজিবাইক। পুলিশের নির্দেশনা অমান্য করে চলাচল করায় ইতোমধ্যে আটক হয়েছে ৩ হাজারের অধিক রিকশা। এসব রিকশা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।

বুধবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সদর দফতরের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় মেট্রোপলিটন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইতোমধ্যে আটক থাকা এসব যানবাহন মালিকদের কাছে ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে সেগুলো কোনো অবস্থাতেই নগরীর এলাকায় চলাচল করতে পারবে না।

সভা সূত্রে জানা গেছে, মহানগরের সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের কারণে সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসময় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, অটোরিকশা ও ইজিবাইক মালিক সমিতির নেতারা এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে নগরীতে যানজট ও শৃঙ্খলাহীনতা বাড়ছে। একই সাথে এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণে চলমান অভিযানে অনেক মালিক মানবিক সঙ্কটে পড়েছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আটক যানবাহনগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তবে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়, হস্তান্তরের পর এসব অটোরিকশা ও ইজিবাইক মেট্রোপলিটন এলাকায় চলাচল করতে পারবে না।

এ বিষয়ে সভায় উপস্থিত সবাই একমত পোষণ করেন।

এছাড়া নগরীতে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের দোকান এবং অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মোহাম্মদ এনামুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সদর ও প্রশাসন) মাসুদ রানা, উপ-পুলিশ কমিশনাররা, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি এবং মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘পুলিশের কাছে বর্তমানে ৩ হাজারের অধিক গাড়ী রয়েছে। এরমধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক ও টমটম রয়েছে।

তিনি বলেন, কার্যকরের প্রক্রিয়া চালু হতে যাচ্ছে। যানবাহনের মালিককে তার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের সাথে একটি অঙ্গিকার পত্রে স্বাক্ষর করে নগরীতে ফের না চালানোর শর্তে গাড়ীটি ফিরত নিতে হবে। এরপর যদি এই গাড়ী ফের নগরীতে চালাতে গিয়ে আটক হয় তখন কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া নগরীতে এসব গাড়ী বিক্রির দোকান বন্ধে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।