মাদারগঞ্জে ৩ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন কয়েকটি গ্রাম

বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যা নামলেই ঘরে ঘরে জ্বলছে কুপি বাতি ও মোমবাতি। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নব্বই দশকের মতো কেরোসিনের কুপি ব্যবহার করছেন।

Location :

Jamalpur
মোমবাতি
মোমবাতি |নয়া দিগন্ত

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা, ইলশামারী, পূর্ব নলছিয়া, নলছিয়া বাজার, মহিষবাথান বাজারসহ কয়েকটি গ্রামে টানা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

একইভাবে চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম এবং জোড়খালী ইউনিয়নের একাধিক এলাকাতেও বিদ্যুৎ নেই। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, কৃষক ও শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যা নামলেই ঘরে ঘরে জ্বলছে কুপি বাতি ও মোমবাতি। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নব্বই দশকের মতো কেরোসিনের কুপি ব্যবহার করছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। আলো না থাকায় রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না তারা। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

মোবাইল ফোন চার্জ দিতে যেতে হচ্ছে পাশের বাজারে। ফলে অনলাইনভিত্তিক পড়াশোনা ও জরুরি যোগাযোগেও বিঘ্ন ঘটছে।

টানা বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা মাছ, গোশত, দুধ ও কাঁচাবাজার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো: বাদশা বলেন, ‘ঈদের পর কেনা গরুর গোশত ও মাছ সব নষ্ট হয়ে গেছে। দোকানের আইসক্রিম, দইও নষ্ট হচ্ছে। টানা তিন দিন বিদ্যুৎ না থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।’

লালডোবা গ্রামের বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান মোকু বলেন, ‘তিন দিন ধরে অন্ধকারে আছি। বাচ্চারা পড়তে পারছে না, এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছে না, ফ্রিজের সব জিনিস ফেলে দিতে হয়েছে। সন্ধ্যার পর মোমবাতি জ্বালিয়ে থাকতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত বিদ্যুৎ চাই।’

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং তার ছিঁড়ে যাওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।